Published : 28 Aug 2025, 09:47 PM
বিএসসি ও ডিপ্লোমা প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের পেশাগত দাবিদাওয়া ও চলমান আন্দোলনের নায্য সমাধানের চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি বলেন, “যারা আন্দোলন করছেন, তাদেরকে আমরা মিট করব। দ্বিতীয়ত আমরা এদের অভিভাবক যারা, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, যাদের কথা ওনারা শোনেন, তাদের সঙ্গে আমরা মিট করব।
“আরেকটা হচ্ছে ‘প্র্যাক্টিক্যাল লেভেলে’ কী হচ্ছে, কেন এই সমস্যাটা হচ্ছে, এটাকে বোঝার জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে যারা সবচেয়ে বেশি ‘রিক্রুট’ করেন, এমন পিডব্লিউডি, এলজিইডি, পিডিবি…এদের সঙ্গেও কিন্তু আমরা বসব। নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই সমস্যার একটা নায্য সমাধানের চেষ্টা করব।”
প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত দাবির যৌক্তিকতা পরীক্ষা করে সুপারিশ দিতে বুধবার একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সেই কমিটির সভাপতি। সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।
কমিটির সদস্য পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “যে সমস্যাগুলো আজকে এসেছে এগুলো আসলে আজকের সমস্যা না তো। এগুলো বহুদিন আগের সমস্যা। ফলে এগুলো সমাধান করতে গেলে আমাদের সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমরা চিন্তা করেছি, আমরা একটা ওয়ার্কিং গ্রুপ করে দিব। আসলে আজকে (বৃহস্পতিবার) একটা ওয়ার্কিং গ্রুপ করা হয়েছে। সেই ওয়ার্কিং গ্রুপে ১৪ জন প্রতিনিধি থাকবে।
“যে সংস্থাগুলোতে ইঞ্জিনিয়ারদের রিক্রুট করা হয়, সেই সংস্থা প্রধানেরা থাকবেন। একইসঙ্গে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের থেকেও চারজন প্রতিনিধি থাকবেন। মোট ১৪ জনের সমন্বয়ে এটা হবে এবং এখানে জনপ্রশাসন ও আইন এই দুইটার প্রতিনিধিত্বও থাকবে। তারা প্রথমে যে কাজটা করবে, তা হচ্ছে বিএসসি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বক্তব্যগুলো আগে শুনবেন। শোনার পরে ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে আমরা বিএসসি বলি বা ডিপ্লোমা বলি, সেখানে যারা প্রণিধানযোগ্য আছেন, যারা বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালো ওয়াকিবহাল আছেন, তাদের বক্তব্যই এই ওয়ার্কিং কমিটি শুনবে।”
রিজওয়ানা হাসান বলেন, “তারপর এখানে অনেক আইনগত বিষয় আছে। সেগুলোর অনেক কাগজপত্র দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো সবগুলো দেখে তারপরে তারা আমাদের আবার ব্রিফ করবে। সেই মোতাবেক আমরা আগাবো।”
আন্দোলনকারীদের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের একটা অনুরোধ থাকবে সকলের কাছে, যেহেতু এগুলো অনেক পুরনো বিষয়, এটা নতুন কোনো বিষয় না, সেহেতু আন্দোলন যারা করেন, তারা যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করেন।
“তাদের যা বক্তব্য আছে, লিখিত আকারে যেহেতু এখন একটা ওয়ার্কিং গ্রুপ হয়েছে, এই ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান হচ্ছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, তার ফোন নম্বর আমরা প্রেস রিলিজ মারফত জানিয়ে দিব।”
রিজওয়ানা বলেন, “যত বক্তব্য আছে, ওনাকে জানিয়ে দেবেন। যারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছেন, তাদের একটা প্রতিনিধি দল সবসময় আমাদের সঙ্গেও বসতে পারেন, ওয়ার্কিং গ্রুপের সঙ্গেও বসতে পারেন, জনদুর্ভোগের সৃষ্টি যেন না করেন।”
“এটা এতদিনের সমস্যা, রাতারাতি সমাধানের বিষয় না। আমাদেরকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা সমস্যাগুলো অনুধাবন করে আমাদের যে সুপারিশ, সেটা সরকারের কাছে পেশ করব।”
সভায় শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম,কমিটির সদস্য সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।
নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আগের কয়েকদিনের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বেলা ১১টা থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, যার নেতৃত্বে ছিল বুয়েট। বিক্ষোভের মধ্যে দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাত্রা শুরু করলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়ে পুলিশ বাধা দেয়।
এসময় লাঠিপেটা, জল কামান, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্তি থেকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র ও পুলিশ সদস্য আহত হন।
এরপর বিকাল ৫টার দিকে বিফ্রিং করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ক্ষমা চাওয়ার দাবিসহ পাঁচ দাবি দেয় তারা। তা না হলে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় তাদের তরফে। পরে রেলভবনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন দুই উপদেষ্টা।
এরপর রাত সোয়া ৯টার দিকে শাহবাগ থানায় আসেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাত ১০টার পরে কমিশনারসহ পুলিশ কর্মকর্তারা থানা থেকে বের হয়ে শাহবাগের শিক্ষার্থীদের জমায়েতে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
পরে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে চলে গেলেও বৃহস্পতিবার সব প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন।
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হল–
নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ ও ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার করা।
দশম গ্রেডে শুধু ডিপ্লোমাধারীরা আবেদন করতে পারে। সেখানে যেন উচ্চ ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা।
শুধু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং যারা সম্পন্ন করবে তারাই যেন প্রকৌশল (ইঞ্জিনিয়ার) লিখতে পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
আরও পড়ুন-
বিএসসি ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দাবির 'যৌক্তিকতা' যাচাইয়ে কমিটি