Published : 24 Jul 2026, 07:26 PM
অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানার মামলায় গ্রেপ্তার আসামি রাকিবুল হাসানকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুক্রবার রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাকে একদিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।
মগবাজার এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী জোনাল টিমের এসআই মো. রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন,"রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করা হয়। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত রিমান্ড না দিয়ে আসামিকে একদিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।"
মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সাথে জড়িতদেন গ্রেপ্তার ও এমপি নজরুল ইসলাম ও মামলার বাদী ওবায়দুরের ভাগ্নির ভাইরাল হওয়া ভিডিও উদ্ধারের জন্য আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন তদন্তকর্তা।
এর আগে গেল বুধবার আমিনুর রহমান নামে এক আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজগার্ডেন টাওয়ারে’ তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ি চালাতেন।
এজাহারে বলা হয়, আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির ‘অনৈতিক সম্পর্ক ‘গড়ে ওঠে।
বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দেন বলে তার গাড়ি চালকের অভিযোগ।
মামলায় বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি ‘চক্র’ নজরুল ইসলাম ও ওবায়দুরের ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে এমপিকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে।
এ নিয়ে বিরোধের জেরে গেল ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের ‘নির্দেশে’ অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে।
সেখানে বলা হয়, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান ‘কৌশলে’ ওবায়দুরকে তাদের বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
একপর্যায়ে আমিনুর ফ্লোরে ফেলে ‘গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওবায়দুর।
তখন তার মা ও ছোট বোন এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে তার ভাষ্য।
মামলায় বলা হয়, হামলার পর আহত অবস্থায় ওবায়দুরকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আসামিরা তাকে ‘যেখানে পাবে সেখানেই’ হত্যার হুমকি দিতে থাকে।
গত সোমবার রাতে এক নারীর সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ সময়ের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রথমে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।
এরপর মঙ্গলবার সংসদ সদস্য তার ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট লিখে সেখানে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।”
এমপি দাবি করেন, “আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লক্ষ টাকা আদায় করে।
“আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
ওই ভিডিওকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।