Published : 19 Aug 2026, 11:21 PM
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং বাকি দুইজন ভারতীয় নাগরিক হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হতে পারার কথা বলেছেন বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশন।
বুধবার রাতে নিহতদের বিষয়ে সবশেষ এ তথ্য দিয়েছেন কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার মোহাম্মদ খালেদ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “নিহত নয়জনের জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আর বাকি দুজন ভারতীয়। তাদের পুরো পরিচয় পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে নাম প্রকাশ করা হবে।”
মঙ্গলবার গভীর রাতের এ দুর্ঘটনায় নিহতদের সবাই বাংলাদেশি বলে প্রথমে খবর দিয়েছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
এর আগে স্থানীয় পুলিশের বরাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি হওয়ার তথ্য দিয়েছিল। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী, ছেলে ও শ্বশুড় রয়েছেন। তখন বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনও বাংলাদেশি বলে আশঙ্কা করার কথা বলা হয়েছিল।
দেবাশীষ তার স্ত্রী ও শ্বশুরের চিকিৎসা করাতে ভারতে গিয়েছিলেন।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে আরেকজন সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহম্মেদ বাবু। ৩৭ বছর বয়সি বাবু ওই এলাকার আদম আলীর ছেলে। আমিন বাজারে তার প্রসাধনী বিক্রির দোকান রয়েছে।
পরিবারের তরফে জানানো হয়, সোমবার রাতে ওই দোকানের পণ্য কিনতে কলকাতা যান আহম্মেদ বাবু।
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুনে পুড়ে ও দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে নগরীর নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় হোটেল শিখা ইন-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন যখন লাগে, হোটেলের অতিথিরা তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হোটেলের ঘরগুলো ধোঁয়ায় ভরে গেলে আতঙ্কিত অতিথিরা ছুটাছুটি শুরু করেন।
ওই হোটেলের কাছেই কলকাতার ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে। নিউ মার্কেট থানা পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার লিখেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল না। গলগল করে শুধু কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছিল।
আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে হোটেলের অতিথিরা বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু গলির মধ্যে ওই ভবনে ঢোকা বা বের হওয়ার পথ খুবই সঙ্কীর্ণ। সে সময় সেখানে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই ভবন থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করেন। তাদের অনেকেই ধোঁয়ায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন; তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন
বেঁচে যাওয়া ৩ বাংলাদেশির বয়ানে কলকাতার হোটেলের অগ্নিকাণ্ড
কলকাতায় হোটেলে আগুন: নিহতদের কতজন বাংলাদেশি?
কলকাতায় আগুনে ৯ মৃত্যু: দোকানের মালামাল কিনতে গিয়েছিলেন সাভারের বাবু