১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কলকাতায় আগুনে ৯ মৃত্যু: দোকানের মালামাল কিনতে গিয়েছিলেন সাভারের বাবু

পশ্চিমবঙ্গের নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি।

কলকাতায় আগুনে ৯ মৃত্যু: দোকানের মালামাল কিনতে গিয়েছিলেন সাভারের বাবু
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আহম্মেদ বাবু।

সাভার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2026, 07:43 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:58 PM

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নিহত নয়জনের মধ্যে একজন সাভারের বাসিন্দা; যিনি দোকানের মালামাল কিনতে সেখানে গিয়েছিলেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুর খবরে বলা হচ্ছে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে নগরের নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় হোটেল শিখা ইন-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। 

এতে শিশুসহ অন্তত নয়জনের প্রাণ গেছে; আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে ভারতীয় পুলিশের বরাতে বুধবার জানিয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশন।

নিহত বাংলাদেশিদের একজন সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহম্মেদ বাবু। ৩৭ বছর বয়সি বাবু ওই এলাকার আদম আলীর ছেলে। পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আহম্মেদ বাবু। তার স্ত্রী এবং রোজা নামে আট বছরের একটি মেয়ে ও সোয়াদ নামের পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

আমিন বাজারে এম এ হোসেন টাওয়ারে কিউট কসমেটিক্স নামের একটি প্রসাধনী বিক্রির দোকান রয়েছে বাবুর।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার রাতে ব্যবসার উদ্দেশে কলকাতা যান আহম্মেদ বাবু। দীর্ঘ দিন ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় দুই বছর পর ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় যান বাবু।

বাবুর মেজো ভাই মনির হোসেনের বলেন, ব্যবসায়িক কাজে ভারতে যাওয়ার আগে স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গিয়েছিলেন বাবু। কিন্তু কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগার পর আর বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আহম্মেদ বাবু ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশ।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারত থেকে লাশ ফিরিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বাবুর পরিবার।

বাবুর বন্ধু ফয়সাল বলেন, মির্জা গালিব স্ট্রিটের তিনতলায় অবস্থিত শিখা ইন নামের আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন বাবু। সেখানে অবস্থানকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে হোটেলের ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারান বাবুসহ বেশ কয়েকজন।

তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইল ফোনে নিহতের খবর জানানো হয়। পরবর্তীতে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে নিহতের ছবি পাঠালে পরিবারের পক্ষ থেকে বাবুকে শনাক্ত করা হয়।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত লাশ দেশে এনে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন বাবুর ভাই রাশেদ ইকবাল। 

বাবু ছাড়া নিহত অন্যরা হলেন- কুষ্টিয়া সদরের আরুয়াপাড়া মোহিনী মিল এলাকার দেবাশীষ দত্ত (৩৯) ও তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের সন্তান শর্ণশিষ দত্ত (৩) এবং দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর কুষ্টিয়া সদরের থানা পাড়ার আকরাম আলী (৬৪)।

কলকাতায় হোটেলে আগুননিহতদের ৪ জনই কুষ্টিয়ার এক পরিবারের

কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যু