Published : 09 Jun 2026, 05:30 PM
অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে চার বড় প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে ১.৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া নিয়ে সরকারের ‘আশাবাদী’ হওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-ইআরডি এবং এডিবির মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে চারটি বড় প্রকল্পে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।”
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তথ্য অধিদন্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মলনে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো অগ্রগতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতের সাম্প্রতিক উদ্যোগ তুলে ধরেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট পেশা করা হবে তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, “বাজেটকে সামনে রেখে সরকার অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।”
বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্মার্ট ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগ এ নিয়ে ওয়ার্কিং পেপার প্রস্তুত করছে এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে কাজ করছে।”
দেশে অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকাকে সাধারণভাবে ‘লোডশেডিং’ বলা হলেও সবক্ষেত্রে তা উৎপাদন ঘাটতির কারণে হয় না বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণেও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং এই সংকট নিরসনে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
জ্বালানির মূল্য বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির মূল্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, কারণ এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও পণ্যমূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অন্যান্য জ্বালানির দাম সামান্য বাড়ানো হলেও তা বৈশ্বিক বাজারের তুলনায় এখনও কম।”
শেয়ারবাজার নিয়ে তথ্য উপদেষ্টার ভাষ্য, “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারে আস্থা ফিরবে এবং শেয়ারবাজারে সুস্থ ধারা ফিরে আসবে বলে সরকার আশা করছে।”
শিক্ষা খাতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘ইনক্লুশন অব স্কিল বেজড এডুকেশন ইন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কারিকুলাম’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।”
বর্তমানে মাত্র আটটি উপজেলায় ১০০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব ৩১ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, “দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পটুয়াখালী-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।”
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট মোকাবিলা এবং বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণের জন্য নতুন ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
কৃষি খাতে সরকারের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএডিসি ও বিএমডিএ ইতোমধ্যে ৪৭৭ দশমিক ৪ একর খাল ও নালা খনন-পুনঃখনন করেছে। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ১৩টি প্রকল্পের আওতায় ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।”
আইন ও বিচার খাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়াকে দেশের বিচার ব্যবস্থায় ‘নজিরবিহীন দ্রুততার উদাহরণ’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সরকার আশা করছে, এই মামলার ডেথ রেফারেন্সসহ পরবর্তী বিচারিক ধাপও দ্রুত সম্পন্ন হবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য দেন জাহেদ উর রহমান। এছাড়া চট্টগ্রামে ৬৩ বছর পর নতুন এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “ওএমএস কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ১ হাজার ১০০ কেন্দ্রের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে নিরাপদ খাদ্য মজুদের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৫ লাখ টন বেশি রয়েছে।”
এছাড়া সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), ড্রোন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে, বলেন তথ্য উপদেষ্টা।