Published : 09 Mar 2026, 04:42 PM
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইনের রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।
আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনে ১৩০টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, "এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ হচ্ছে ২০২৫ সালে অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ধূমপান ও তামাক জাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন। এটি গত ডিসেম্বরে জারি হয়েছে। আমার আত্মবিশ্বাস বেশীর ভাগ সংসদ সদস্য এ বিষয়ে এগিয়ে আসবেন। এ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।"
আইনে পরিণত হওয়ার পর তা প্রয়োগ করতে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ 'ক্যাম্পইন' করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি আইনটি কিভাবে প্রয়োগ করা যায় সে ব্যাপারে আয়োজক সংগঠনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন তথ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আইনের বিকল্প নেই। জনপ্রত্যাশা পূরণে অধ্যাদেশটি যথাসময়ে আইন হিসেবে পাশ করা এখন সময়ের দাবি।”
বেসনকারি টেলিভিশন স্টেশন চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে, এটা চলমান রাখতে হবে।”
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘চরচা’র সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উচিত হবে অধ্যাদেশটি হুবহু আইন হিসেবে পাশ করা।”
অনুষ্ঠানে তামাক ব্যবহারের ফলে ক্যান্সারে আক্রান্ত ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় সংক্রান্ত পর্বটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক।
তিনি বলেন, “আমরা এই অসহায় মানুষদের কন্ঠস্বর তুলে ধরলাম। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা এই আর্তনাদ যেন আর শুনতে না হয়।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে প্রজ্ঞার হাসান শাহরিয়ার।
"দেশের প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (৩৫ শতাংশ) তামাক ব্যবহার করেন। তামাক প্রতিদিন কেড়ে নেয় গড়ে ৫৪৮টি প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করে অসংখ্য মানুষ। তামাকের আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।"
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই ঘটে হৃদরোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ব্যবহার বলা হয় অনুষ্ঠানে।
‘আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন ও প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষায় ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট প্রভৃতির উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সাথে নারী ও শিশুসহ অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের মারাত্মক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ বা ডিএসএ রাখার বিধান কার্যত বাতিলের মাধ্যমে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলাধুলার স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা এবং ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে বিক্রয়স্থলে তামাকপণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধসহ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে অধ্যাদেশে।