Published : 14 Aug 2025, 11:35 PM
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) অর্থায়নকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে ইসরায়েলের সংযোগ থাকায় সেখানে শিক্ষার্থী পাঠানোর বিরোধিতার কথা বলছেন ঢাকায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে ফিলিস্তিন সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি ফিলিস্তিন সরকারের স্বীকৃত নয়।
এইউডব্লিউ কীভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, ব্রিফিংয়ে সে ‘তথ্য-প্রমাণও’ তুলে ধরেন তিনি।
এইউডব্লিউতে আফগান ও লাও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর উদাহরণ টেনে রাষ্ট্রদূত বলেন, এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
“ইসরায়েলি সরকার এবং ফিলিস্তিনের প্রতি তাদের নীতিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন করে- এমন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সঙ্গে এইউডব্লিউর সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে সেই উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের আগমনকে স্বাগত জানালেও যে প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ বা অনুদান ফিলিস্তিনি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেটাকে সমর্থন করতে পারে না দূতাবাস।”
বাংলাদেশে পড়তে আসতে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের ‘অন-অ্যারাইভাল’ ভিসার অনুমতি বাতিলের কারণে ১৩০ ছাত্রীর পড়াশোনা অনিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে বুধবার সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
এইউডব্লিউতে ওই শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা হলেও তাতে ফিলিস্তিন দূতাবাসের বিরোধিতার কথা বলা হয় প্রতিবেদনে। তবে, কী কারণে ফিলিস্তিন দূতাবাস এর বিরোধিতা করছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশে ফিলিস্তিনি ছাত্রীদের পৌঁছানোর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পর বৃত্তি পাওয়া অন্তত ৩০ ছাত্রীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের হামলায় ওই ছাত্রীরা নিহত হয়েছেন, কিংবা অন্য কোথাও চলে গেছেন।”
আটটি কারণে এইউডব্লিউতে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিরোধিতা করার কথা তুলে ধরে ইউসুফ রামাদান বলেন, এইউডব্লিউ’র প্রতিষ্ঠাতা চ্যালেন্সর চেরি ব্লেয়ার। তার স্বামী সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, যিনি গাজায় ইসরায়েলের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সম্প্রসারণের ‘প্রকাশ্য সমর্থক’।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কেবল এইউডব্লিউতে বিদেশি চ্যান্সেলর রয়েছেন। আর সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে এমন সদস্য রয়েছেন, যাদের ইসরায়েলের সঙ্গে সংযোগ আছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও এইউডব্লিউর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ার দীপু মনি কাতার সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন, দুইশ শিক্ষার্থীর পাঁচ বছর পড়াশোনার জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার দিতে।
“এটা গ্রহণযোগ্য, কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান গ্রহযোগ্য নয়।”
রাষ্ট্রদূত বলেন, এইউডব্লিউর উল্লেখযোগ্যসংখক দাতা এবং অংশীদারের সঙ্গে ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি কোম্পানি বা উদ্দেশ্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত সংযোগ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বিল অ্যান্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, বেয়ার এজি এবং ডিরেক্ট রিলিফ।
তিনি বলেন, এইউডব্লিউতে শিক্ষার্থী নেওয়ার জন্য ঢাকায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতকে চাপ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাঁচটি পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূত। এই সরকারগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে তো স্বীকৃতি দেয়ইনি, বরং গাজায় ফিলিস্তিনের উপর গণহত্যা চালানোর জন্য ইসরায়েলকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে যাচ্ছে।
“এ কারণে, মানবিক কারণ দেখিয়ে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূত তাদের এই চাপ বিতর্কিত।
তিনি বলেন, এইউডব্লিউ’র অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত ‘সিওজিএটি’, যেটি ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার সঙ্গে জড়িত। যেটা আন্তর্জাতিক আইনে জোরপূর্বক অভিবাসন।
“এটাও উল্লেখ করতে হবে যে, ফিলিস্তিন প্রশ্নে সমর্থন দিয়ে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেননি কামাল আহমেদ।”
৩০ শিক্ষার্থীর ‘নিখোঁজের’ বিষয়ে প্রতিবেদনে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তার বিরোধিতা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “দূতাবাসের বিলম্বের কারণে ৩০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তি নেই। যে ৩০ শিক্ষার্থীর কথা বলা হচ্ছে, তারা এইউডব্লিউর বৃত্তি থেকে স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এবং দূতাবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া বিকল্প বৃত্তি গ্রহণ করেছেন।”