১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাণীর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

“প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টনের প্রক্রিয়া সমন্বিতভাবে গড়ে তুলতে না পারলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে,” বলেন তিনি।

প্রাণীর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে সোমবার সেমিনারে কথা বলেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ছবি: পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Sep 2024, 10:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:31 AM

মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য পেতে প্রাণীর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

তিনি বলেছেন, “মানুষের খাদ্য প্রাণীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই মানুষের নিরাপদ খাদ্য পেতে প্রাণীর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।”

সোমবার প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (এলআরআই) এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। প্রাণিসম্পদের ভ্যাকসিন উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য করণীয় বিষয়ে ওই সেমিনার হয়।

উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, সুষম পুষ্টি, বেকার সমস্যার সমাধান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধি, মেধা সম্পন্ন জাতি গঠন ও বৈদেশিক আমদানি নির্ভরতা হ্রাসে জিডিপিতে প্রাণিসম্পদের অবদান অপরিসীম। প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বণ্টন প্রক্রিয়া অন্যান্য খাতের চেয়ে ভিন্ন ও জটিল।

“এ প্রক্রিয়া সমন্বিতভাবে গড়ে তুলতে না পারলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। নতুন নতুন রোগের উদ্ভব হবে। এর ফলে শিল্পটি হুমকির মুখে পড়বে। সমন্বিত ব্যবস্থাপনা করা না হলে মারাত্মক রোগ ও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রাণিসম্পদের উন্নয়নের জন্য এ খাতের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে একত্রে সমন্বিত হয়ে কাজ করতে হবে।”

ভ্যাকসিন তৈরিতে দেশের বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন প্রান্তিক খামারিদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। রোগগুলো যেন গবাদিপশুকে আক্রমণ করতে না পারে, সেজন্য ভ্যাকসিন বা টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

“আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন তৈরিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে একদিকে যেমন বিদেশ নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান দিয়ে প্রাণিসম্পদ খাত আরও বিকশিত ও সমৃদ্ধ হবে।”

এলআরআইকে দক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী রাত-দিন পরিশ্রম করেন, তাদের ইনসেন্টিভ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমরা এলআরআইয়ের ভ্যাকসিন উৎপাদন কমপক্ষে ৩ গুণ বাড়াতে চাই।

“দেশে পশুজাত খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য আঞ্চলিক ল্যাব স্থাপন করতে হবে। আমরা প্রান্তিক মানুষের নিকট সেবা পৌঁছানোর জন নিরাপদ চেইন সিস্টেম বানাতে চাই।”

সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ রেয়াজুল হক সভাপতিত্ব করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর, প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এটিএম মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।