Published : 16 Nov 2025, 10:41 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোট নিতে পুরো পৃথিবীকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নিবন্ধনের সময় বেঁধে দেবে নির্বাচন কমিশন।
পোস্টাল ভোটিংয়ের জন্য নিবন্ধন অ্যাপ চালু করলেই জানিয়ে দেওয়া হবে, কোন অঞ্চলে কোন তারিখ পর্যন্ত নিবন্ধন করা যাবে।
এবারের নির্বাচনে ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং’ এর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে ইসি।
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এ নির্বাচন হবে; একই দিনে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা এসেছে সরকারের তরফে। সেজন্য ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিংয়ের জন্য নিবন্ধন অ্যাপ চালু হচ্ছে ১৮ নভেম্বর। নিবন্ধন, পোস্টাল ব্যালট আনা-নেওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে কাজ করছে ইসির ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি–এসডিআই) প্রকল্প।

এ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নিবন্ধনের জন্য বিভিন্ন দেশ, রিজিয়নকে ভাগ করে নিবন্ধনের সময় দেব। যেমন ধরুন, প্রথমে দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়ার কিছু অঞ্চল… এভাবে ভাগ করা হবে “
অঞ্চলভিত্তিক প্রবাসীদের নিবন্ধনের জন্য সময় দেওয়া হবে অন্তত পাঁচ দিন। কার কখন নিবন্ধন করতে হবে তা অ্যাপ ডাউনলোড করলেই জানা যাবে।
সালীম আহমাদ খান বলেন, “ধরেন যুক্তরাষ্ট্রে বসে উনি অ্যাপ ডাউনলোড করলেন। তখন দেখতে পারবেন উনার নিবন্ধন স্লট কবে। উনার জন্য পাঁচ দিনের স্লটটা কোন তারিখ থেকে কোন তারিখ… ডাউনলোড করার পর পরই দেখতে পাবেন।”
নিবন্ধনের এই কাজ আনুমানিক চার সপ্তাহের মধ্যে সেরে ফেলার পরিকল্পনার কথা বলেন প্রকল্প পরিচালক।
কেউ যখন অ্যাপে এনআইডির তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করবেন, তখন ঢাকা থেকে তার নামে ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠাবে ইসি।
ব্যালট পাঠানোর কাজটি শুরু হয়ে যাবে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই। ফলে ব্যালটে প্রার্থীর নাম বা ছবি থাকবে না। থাকবে শুধু প্রতীক। প্রতীকের পাশে একটি ঘর থাকবে টিক বা ক্রস চিহ্ন, অর্থাৎ ভোট দেওয়ার জন্য।

এরপর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গেলে তা অ্যাপের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। একজন নিবন্ধিত প্রবাসী অ্যাপ থেকে প্রার্থীদের নাম ও ছবি দেখে ব্যালটে নিজের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে ভোট দিয়ে তা দেশে পাঠিয়ে দেবেন।
প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের ভেতরে সরকারি চাকরিজীবী, ভোটে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের জন্যও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
• দেড় কোটির মত প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। কিন্তু প্রবাসী ভোটার কতজন, সেই পরিসংখ্যানে নেই।
• দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখ। বদলির চাকরির কারণে তাদের একটি বড় অংশ নিজের ভোটের এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন না।
• ভোটের কাজে নিয়োজিত থাকবেন ৭-৮ লাখের মত নিরাপত্তা সদস্য এবং ৯-১০ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা।
• আর আইনি হেফাজতে বা কারাগারে রয়েছেন অর্ধলাখের মত ব্যক্তি।
ডাকযোগে প্রবাসীদের ভোট নেওয়ার এ উদ্যোগ প্রশংসা পেলেও সাড়া কেমন মিলবে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা করতে পারছে না ইসি।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, “ইন্টারন্যাশনালি যারা এটা নিয়ে কাজ করেছেন, অনলাইন ভোটিংয়ে রেসপন্স খুব একটা বেশি হয়নি। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে কেমন হবে এই মুহূর্তে বলা মুশকিল “
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “প্রবাসী যদি দেড় কোটি থাকে, এর মধ্যে এনআইডিধারী কারা, কারা ভোটার–এটার হিসাব যেহেতু আমাদের হাতে নেই, ফলে এটা বোঝা মুশকিল। তবে ৫০ লাখের প্রিপারেশন আমাদের আছে।

সালীম আহমাদ খান জানান, প্রবাসীদের ব্যালট পাঠানোর কার্যক্রমের শেষ দিকে দেশের ভেতরে তিন ধরনের ব্যক্তির (অ্যাপে নিবন্ধিত) ঠিকানা ধরে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ শুরু হবে।
সরকারি কর্মকর্তা, ভোটের কাজে সম্পৃক্তরা এবং আইনি হেফাজেতে (কারাগারে) থাকা ব্যক্তিরা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশে যারা আছেন, উনারা প্রতীক বরাদ্দের আগে-পিছে মিলিয়ে ব্যালট পেয়ে যাবেন।”
জেলখানার প্রস্তুতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অবসরপ্রাপ্ত এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বলেন, “জেলখানা কর্তৃপক্ষের সাথে পুরা সমন্বয় হয়ে গেছে। দেশে ৭১টা জেলখানা আছে। এসব জেলখানায় আমাদের টিম যাবে, উনাদের টিমও থাকবে। সমন্বয় করে জেলখানায় একটা বুথ করা হবে। সেখানে কয়েদিরা নিবন্ধন করবেন।”
পোস্টাল ব্যালটের কথা মানুষকে জানাতে নানা ধরনের প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রকল্পের টিম লিডার।
তিনি বলেন, “যত ধরনের প্রচার রয়েছে, ধরুন স্ট্যাটিক কোনো পোস্ট বলেন, ডায়নামিক, সবগুলো আমরা কিউআর কোড দিচ্ছি। কেউ যদি এটা নিয়ে অন্যখানে কপি করে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে, ওটা প্রুফ করা যাবে। কোনটা নির্বাচন কমিশন থেকে দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটা আমাদের কিউআর কোড থাকবে।”
অঞ্চলিভিত্তিক সহায়তা দিতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করার পরিকল্পনার কথাও তিনি বলেন ।
সালীম আহমাদ বলেন, “হেল্পলাইন আছে; প্লাস বিভিন্ন দেশের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ভাগ করে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, সোশাল মিডিয়ার নম্বর ভাগ করে একটা প্ল্যান করছি। প্রবাসীরা যাতে আরামে কাজটা করতে পারেন, সেজন্য নম্বরগুলা ভাগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
পুরনো খবর
পোস্টাল ব্যালট: প্রবাসে ভোট প্রতি খরচ ৭০০ টাকা
বিপুল ব্যয়ের পোস্টাল ভোটিংয়ে সাড়া মিলবে তো?
প্রবাসীর ভোট: নিবন্ধন অ্যাপ, ব্যালট মুদ্রণ ও আনা-নেওয়ার খরচ কষছে ইসি