Published : 01 Feb 2026, 11:21 AM
আগা খান পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশি স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরী মনে করেন, বাংলাদেশের মত অঞ্চলে স্থাপত্যকে কেবল রূপ বা নান্দনিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না; বরং জলবায়ু চাপ, মানুষের সহনশীলতা এবং স্থানিক বাস্তবতার প্রতি অর্থবহ সাড়া দেওয়াই ‘মূল দায়িত্ব’।
শনিবার সন্ধ্যায় তার নতুন মনোগ্রাফ ‘মেডিটেশনস ইন এনট্রপি: দ্য ওয়ার্ক অব কাশেফ চৌধুরী’বইয়ের উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকার গুলশানের ক্রাউন প্লাজা বলরুমে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আর্কিকানেক্ট।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে কাশেফ চৌধুরী স্থাপত্যকে “জলবায়ু, ভূ-প্রকৃতি এবং সমষ্টিগত স্মৃতির প্রতি এক গভীর ও সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া” হিসেবে তুলে ধরেন।
পরিবেশগত ঝুঁকি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা প্রায় তিন দশকের স্থাপত্যচর্চার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত প্রায় ২০ বছর ধরে জলবায়ু সংবেদনশীল সামাজিক প্রকল্পের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে এ বইটি লেখা হয়েছে। যেখানে বর্তমান সংকট ও বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।
“এছাড়া কম বাজেটে কীভাবে আলো-ছায়াকে নকশার প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, গ্রামমুখী চিন্তা ও শহরমুখী অভিবাসনের বিপরীতে গ্রামে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ ও সেখানকার ছোট ছোট সামাজিক প্রকল্পগুলো তুলে ধরা হয়েছে।”
তবে তার ভাষায়, “এ বইটি কোনো স্থাপত্য-অবয়বের উদযাপন নয়; বরং এটি একটি প্রক্রিয়ার প্রতিফলন—যেখানে সংযম, প্রেক্ষাপট এবং সহমর্মিতা থেকে স্থাপত্যের জন্ম হয়।”
সুইজারল্যান্ডের জুরিখভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা পার্ক বুকস থেকে প্রকাশিত ‘মেডিটেশনস ইন এনট্রপি’ কাশেফ চৌধুরী ও তার স্থাপত্য ফার্ম আরবানার কাজের ওপর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মনোগ্রাফ।
বইটির পাঁচ শতাধিক পৃষ্ঠায় স্কেচ, নকশা, আলোকচিত্র ও বিশ্লেষণধর্মী লেখার মাধ্যমে গত ৩০ বছরের স্থাপত্যচর্চা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরন ও পরিসরের ১৮টি বাস্তবায়িত প্রকল্পের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বইটিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থাপত্য আলোকচিত্রী হেলেন বিনের আলোকচিত্র এবং কেনেথ ফ্র্যাম্পটন, উইলিয়াম জে আর কার্টিস, রবার্ট ম্যাককার্টার, আইনুন নিশাত ও ফিলিপ উরস্প্রুং–এর সমালোচনামূলক প্রবন্ধ সংযোজিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার তার বক্তব্যে সমাজ ও পরিবেশগত বাস্তবতার গভীরে প্রোথিত স্থাপত্যচিন্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “কাশেফ চৌধুরীর কাজ প্রমাণ করে, নকশা কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ও নগরায়নের চ্যালেঞ্জের প্রতি বুদ্ধিদীপ্ত ও সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।”
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. রেতো রেংগ্লি। তিনি বলেন, কাশেফ চৌধুরীর এ বই আগামী দিনের স্থাপত্যশিল্পের জন্য একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা ছিলেন জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত, স্থপতি ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শামসুল ওয়ারেস এবং ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি)–এর সভাপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ।
স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।