প্রতি বছর ২১ নভেম্বর এই দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটিতে ঢাকা সেনানিবাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
Published : 19 Nov 2024, 10:22 PM
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপনে বৃহস্পতিবার নানা আয়োজন রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর- আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে।
এই দিনটিকে সামনে রেখে ঢাকা সেনানিবাসে যান চলাচল সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দেবেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২১ অগাস্ট বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হয়ে পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করেছিল। এর স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটিকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
দিনের কর্মসূচি
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
এরপরেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
তিন বাহিনীর প্রধানরা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এবং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে নির্বাচিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরাধিকারীদেরকে সংবর্ধনা দেবেন। খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শুভেচ্ছা স্মারক বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ও করবেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক), সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
বিকাল ৪টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতিরা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার ব্যক্তি, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর সাবেক প্রধান, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদক প্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠের উত্তরাধিকার, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তাদের উত্তরাধিকার, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তা এবং তিন বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকছে।
ঢাকার বাইরেও কর্মসূচি
আইএসপিআর জানায়, ঢাকা ছাড়াও বরিশাল, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, যশোর, রংপুর ও খুলনা সেনানিবাস ঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট এরিয়া সদর দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে।
ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনীর জাহাজগুলো বিকাল ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্বসাধারণের দেখার জন্য ঘাঁটে নোঙর অবস্থায় থাকবে।
টেলিভিশন - রেডিওতেও অনুষ্ঠান
আইএসপিআর বলেছে, দিবসের আগের দিন বুধবার সশস্ত্র বাহিনী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর সশস্ত্র বাহিনীর পরিবেশনায় ‘বিশেষ অনির্বাণ’ অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড় ৭টায় ‘বিশেষ দুর্বার’ অনুষ্ঠান সম্প্রচার হবে। অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে পরে পর্যায়ক্রমে সম্প্রচার করা হবে।
ক্রোড়পত্র, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
দিবসটি উপলক্ষে বাংলা ও ইংরেজি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসমূহে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ হবে। সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
ঢাকা সেনানিবাসে যান চলাচল সীমিত
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসের সড়কগুলো (শহীদ জাহাংগীর গেট থেকে স্টাফ রোড পর্যন্ত প্রধান সড়ক) যানজট মুক্ত রাখার লক্ষ্যে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
সেনানিবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের বহনকারী যানবাহন ছাড়া অন্যান্য যানবাহনকে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এবং দুপুর ১২টা হতে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেনানিবাস এড়িয়ে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।