তাহসিফের মৃত্যুর কারণ জানতে চান বাবা
কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কথা ওই আবেদনে না থাকায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামাদের।
তুরাগ নদে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় ‘হত্যা মামলা’ হলেও মামলার আবেদনে সরাসরি হত্যার অভিযোগের কথা বলেননি বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।
উত্তরখান থানায় করা শুক্রবার গভীর রাতে ওই আবেদনে তিনি ছেলের ‘মৃত্যুর কারণ উদঘাটন পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে’ বলেছেন।
এর বাইরে ছেলের নিখোঁজের পরদিন লাশ উদ্ধারের প্রেক্ষাপট এবং পরে ময়নাতদন্ত ও দাফনের বাইরে কোন সন্দেহ বা ধারণার কথাও বলেননি।
পরে সেই আবেদনটিকেই এজাহার হিসেবে আমলে নিয়ে ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারা যুক্ত করে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ।
দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা মূলত একাধিক ব্যক্তির পূর্বপরিকল্পনায় সংঘটিত হত্যা, ২০১ ধারায় আলামত ধ্বংস এবং ৩৪ ধারায় যৌথ অপরাধমূলক অভিপ্রায়ের অভিযোগ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কথা ওই আবেদনে না থাকায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামাদের।
শনিবার দুপুরে নিজ বাসা উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এনায়েতুল করিম নিজেও এই আবেদনের কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, “একটা আবেদন করেছি উত্তরখান থানা বরাবর। আমি তাদেরকে জানিয়েছি আমার ছেলের মৃত্যুর কারণটা উদঘাটনের জন্য। সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন জানিয়েছি।”
ছেলে তাহসিফের সঙ্গে ‘সবার সম্পর্ক ভালো ছিল এবং অন্যের যে কোন সমস্যায় ছুটে যেত’ জানিয়ে তিনি বলেন, “এমন ছেলের এমন দুর্ঘটনা আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা আশা করি যে, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়।
“রাষ্ট্র তার বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে তদন্ত করে জড়িতদের যেন বিচারের আওতায় আনে এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা যেন আর না ঘটে। একজন নাগরিক হিসেবে এটাই আমার প্রত্যাশা।”
দীপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ছেলেটির তাদের বাসায় যাতায়াত ছিল।
“পিবিআইয়ের তদন্তে স্বীকার করেছে তারা টঙ্গীতে গিয়েছিল। কিন্তু দীপ আমাকে বলেছিল যে, এই কম্পাউন্ডে (তাহসিফের বাসা এলাকা) রেখে গিয়েছিল, বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ। আমি জানি না কে জড়িত বা কে কি করেছে বুঝতে পারছি না।”
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।
দীপ বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।
রাতেই মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যেই শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।
‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করেন দীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।
তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে শুক্রবার রাতে দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই।
রাতেই তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলায় কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না করলেও ঘটনার দিন মধ্যরাত অব্দি তাহসিফের সঙ্গে থেকে আলোচনায় আসা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ওই মামলায় তার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানোর কথা বলেছে তাহসিফের লাশ উদ্ধারকারী ইউনিট নৌ-পুলিশ; তারাই মামলাটির তদন্ত করবে।
