Published : 18 Jan 2026, 03:10 PM
সব অভিবাসী কর্মীকে ই-ভিসার আওতায় আনতে মালদ্বীপ সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশিদের কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, তা বিস্তারিত জানিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।
শনিবার মালদ্বীপের ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে বাংলাদেশ হাই কমিশনার মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠকে ই-ভিসা ও নতুন মোবাইল অ্যাপের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন দেশটির ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল আহমেদ ফাসীহ।
মালেতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়, বৈঠকে মালদ্বীপে বসবাসরত ও কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ সুরক্ষায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
“বৈঠকে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের কন্ট্রোলার জেনারেল সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে হাই কমিশনারকে অবহিত করেন, যার মধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম ও ইমিগ্রেশন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু অন্যতম।”
মালদ্বীপের ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে। ই-ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভিসার অবস্থা অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব হবে এবং নিকট ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা ইস্যুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মালদ্বীপ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগে অভিবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে অন অ্যারাইভাল ভিসায় ঢোকার পর ১৫ দিনের মধ্যে ওয়ার্ক ভিসা নিতে হত।
হাই কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে আহমেদ ফাসীহ বলেছেন, বর্তমানে বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তর করা হবে এবং নতুন আগমনকারীদের জন্য এ ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে।
মালদ্বীপ সরকার প্রাথমিকভাবে গত নভেম্বরের ১০ তারিখে অভিবাসী কর্মীদের জন্য ই-ভিসা সেবা চালু করে। এই সেবা চূড়ান্তভাবে চালুর তথ্য ২৩ নভেম্বর দেয় এমএম টেলিভিশন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন বলেছে, বৈঠকে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। হাই কমিশনার বলেন যে অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালদ্বীপে প্রবেশ করলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পাওয়ায় পরবর্তীতে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হন, যা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে দেয়।
“তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের শোষণ ও প্রতারণা থেকে সুরক্ষার ওপর জোর দেন এবং তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধে সমন্বিত সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।”
ডলার সংকট নিরসনসহ একটি কার্যকর ও নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন হাই কমিশনার। পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তার কঠোর তদারকি, প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণায় জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন বিভাগের দৃষ্টিতে আনেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে প্রাপ্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য তিনি ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেলকে তিনি অবহিত করেন।
জবাবে কন্ট্রোলার জেনারেল আশ্বাস দিয়েছেন, যাচাই সাপেক্ষে এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের শ্রম সম্পর্ক কর্তৃপক্ষের (এলআরএ) কাছে অভিযোগ দাখিলের জন্য উৎসাহিত করা হবে।
উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপে দায়িত্বশীল ও নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর একমত পোষণ করেন এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বলেছে, নতুন পাসপোর্টে কোনো তথ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলে সরকারি নথির জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশনের ‘ভেরিফিকেশন লেটার’ প্রয়োজন হয়।
এছাড়াও গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় এবং এ সংক্রান্ত সকল প্রতিবেদন মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। আইনানুগ বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে বলেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বলেছেন।