Published : 30 Apr 2026, 09:24 PM
বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় একাত্তর, এ কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ নিয়ে বারবার কথা বলতেই হবে।
তিনি বলেন, একাত্তরকে কটাক্ষ মেনে নেওয়া যায় না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধিকারের জন্য দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আমরা লড়াই করেছি।
“পরবর্তীকালে যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে যখন মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছে তখন সেই যুদ্ধে আমরাও সবাই গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।”
তিনি বলেন, “সেই একাত্তরকে নিয়ে যদি কেউ কটাক্ষ করে, সেই একাত্তরকে যদি খাটো করার চেষ্টা করে তখন সেটা আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়। সেইজন্যই আমার সহকর্মী সালাহউদ্দিন সাহেব যেটা বলেছেন, একাত্তর নিয়ে কথা আমাদের বলতেই হবে।
“কারণ এটা আমাদের অস্তিত্ব, এটা আমাদের ‘আইডেন্টিফিকেশন’, এটা আমাদের ‘আইডেন্টি’। আমি বারবার একটা কথা বলছি, একাত্তর হচ্ছে আমাদের পরিচয়। এজনই আমরা এ কথাটা বারবার বলি।”
তার আগে বিএনপি মহাসচিব লন্ডন বৈঠকের প্রসঙ্গ টানেন। গত বছর জুনের মাঝামাঝি লন্ডন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হয়। সেই বৈঠক থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা আসে।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “ওই লন্ডন বৈঠক হয়েছিল বলেই আজকে এখানে আমরা সবাই।”
বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “বিদ্রুপ করে, কটাক্ষ করে বলেছেন, সেখানেই নাকি কী একটা ষড়যন্ত্র চক্রান্ত হয়েছে। যার ফলে বিএনপি আজকে এই ‘পার্লামেন্টে মেজরিটি’ নিয়ে বসে আছে।”
তিনি এ ধরনে কথাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানান।
বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সমগ্র দেশের মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, সমগ্র দেশের মানুষ এই নেতার দিকে তাকিয়ে আছে, যিনি বাংলাদেশে এসে প্রথম যে কথাটা সকলের সামনে বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান, আমার একটা পরিকল্পনা আছে’।
“সেই পরিকল্পনা হচ্ছে দেশকে গড়ে তুলবার পরিকল্পনা, সেই পরিকল্পনা হচ্ছে দারিদ্র থেকে মুক্ত হবার পরিকল্পনা, সেই পরিকল্পনা হচ্ছে শিক্ষার পরিকল্পনা, সেই পরিকল্পনা হচ্ছে সকলকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা।”
“আজকে সে কাজগুলো তিনি শুরু করেছেন। এগুলো নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছে, এত টাকা পাবে কোথায়? আপনারা তো দেখছেন, কাজ শুরু হয়ে গেছে এবং উনি বর্ণনাও করেছেন কীভাবে টাকা আসবে, কোথায় থেকে যাবে।”
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ দলের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমাদের এই তরুণ, এই যুবককে প্রধানমন্ত্রী, আমাদের নেতাকে সামনে নিয়ে আমরা এগুচ্ছি, আমরা এগোচ্ছি একটা সম্ভাবনার একটা প্রতীককে সামনে নিয়ে, যাকে আমরা আশা করি যে তিনি বাংলাদেশের পরিবর্তন আনতে পারবেন।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার চীন সফরের স্মৃতিচারণ করেন, যে সফরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সেই সফরে তারেক রহমানকে ‘মাই সান’ বলে চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তখন চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ক্যারি দা ফ্ল্যাগ অফ ইউর ফাদার।’
“আজকে সেই পতাকা তিনি তুলে ধরেছেন, সেই পতাকা হচ্ছে স্বাধীনতার পতাকা, সেই পতাকা হচ্ছে সার্বভৌমত্বের পতাকা, সেই পতাকা গণতন্ত্রের পতাকা।”