‘খালিদীর চলে যাওয়াটা বড় শূন্যতা তৈরি করবে’
‘‘দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ।“
কোনো চাপের কাছে ‘নতি স্বীকার না করা’ তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুর খবর দেশের গণমাধ্যমে ‘বড় শূন্যতা’ তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা।
তাদের ভাষায়, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক খালিদী ছিলেন একজন ‘বিচক্ষণ’ সাংবাদিক, একজন ‘সাচ্চা দেশপ্রেমিক’, ‘সাহসী’, ‘সজ্জন’ ও ‘বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব’।
তারা বলেছেন, সাংবাদিকতায় খালিদী ছিলেন ‘কিছুটা ব্যতিক্রমী’। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কারণে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন।
ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাজ্যে থাকা অবস্থায় মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হলে বৃহস্পতিবার রাতে খালিদীকে নেওয়া হয় লন্ডনের সেইন্ট বার্থোলোমিউ’স হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকরা স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ২টা ২৩ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খালিদীর মৃত্যুর সংবাদ জানার পর থেকেই শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন তার স্বজন, সহকর্মী, বন্ধুবান্ধবসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি শোক আসতে থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে।
শোক জানিয়েছে বিএনপি মিডিয়া সেলও। তারা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘‘আমরা একজন বিচক্ষণ সাংবাদিককে হারালাম। তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব দারুণ ছিল। তার সাংবাদিকতা বাংলাদেশে অনন্যতা সৃষ্টি করেছে।’’
‘‘তিনি সব সময় পড়াশোনায় ব্যস্ত সাংবাদিক ছিলেন। তিনি একজন সাচ্চা দেশপ্রেমিক ছিলেন। জ্ঞানী এই সাংবাদিকের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তার সম্পাদিত বই মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “তৌফিক ইমরোজ খালিদী সাংবাদিক হিসেবে ছিলেন সৎ ও সাহসী। কর্মক্ষেত্রে তার নজিরও রেখেছেন।’’
“বর্তমানে মুক্ত সাংবাদিকতার আবহে তার মতো এরকম সাহসী সাংবাদিকের বিদায় অবশ্যই বেদনার।”
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের চোখে, ‘‘দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’’
তিনি আরও বলেন, “তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের বিকাশে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সাহস, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে তিনি সাংবাদিকতা করেছেন। তার মৃত্যু দেশের গণমাধ্যমের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি।”
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি এক শোকবার্তায় বলেছে, ‘‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম জগতের অপূরণীয় ক্ষতি ও গভীর শূন্যতা তৈরি হলো।
“তিনি কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সততার অনন্য নজির তৈরি করে গেছেন। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন।’’
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক শোকবার্তায় বলেন, ‘‘তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতের একজন সুপরিচিত ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব।’
‘‘দেশে অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশ ও বিকল্পধারার গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ও অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি নিজস্ব চিন্তা ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে সমৃদ্ধ করেছেন।’’
তারা বলেন, ‘‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার চলে যাওয়া শুধু তার পরিবার ও সহকর্মীদের জন্য নয়, দেশের সাংবাদিকতা জগতের জন্যও গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।’’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “সাংবাদিকতায় খালিদী নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছিলেন। সাংবাদিকতায় খালিদী কিছুটা ব্যতিক্রমী ছিলেন। অসময়ে খালিদীর চলে যাওয়াটা বড় শূন্যতা তৈরি করবে।’’
তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে ‘একজন উচ্চমানের পেশাদার সাংবাদিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
তিনি বলেন, “একজন উচ্চমানের পেশাদার সাংবাদিক, উদার ও বন্ধুবৎসল ব্যক্তি খালিদীর সঙ্গে আমার সামান্য পরিচয় সূত্রে অসামান্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তার অকাল প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত বোধ করছি এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
