Published : 28 Jul 2025, 01:27 AM
জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থার যে পুনর্বিন্যাস হয়েছে, তাতে এখনো বৈষম্য রয়ে গেছে বলে মনে করেন নারী অধিকারকর্মী ও আদিবাসী শিক্ষার্থীরা।
প্রবল আন্দোলনের মধ্যে গত বছরের ২৩ জুলাই সব গ্রেডের নিয়োগে অগ্রাধিকার সুবিধা ৫৬ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী নতুন বিন্যাসে বাদ পড়ে নারী ও জেলা কোটা। ২০১৮ সালের আগে এই দুই কোটার জন্য ১০ শতাংশ করে ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল।
মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি কোটা বাদ দিয়ে কেবল মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়, যা আগে ছিল ৩০ শতাংশ।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ কোটাও কমিয়ে আনা হয়। তাতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের আগের ১ শতাংশ কোটায় যুক্ত হয় তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীরা।
নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, জেন্ডার সমতা অর্জনের আগে নারী কোটা বাতিল হওয়ায় কর্মক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
আর আদিবাসী শিক্ষার্থীরা বলছেন, অগ্রাধিকার সুবিধা কমায় ইতোমধ্যে তারা পিছিয়ে পড়তে শুরু করেছেন।
আর জেলা কোটা বাদ দেওয়ায় পশ্চাৎপদ জেলার মানুষ আরও পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন অংশীজনরা।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা ছিল। তবে এর হার ও ধরন বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে।
এর মধ্যে কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলে আসছিল গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে, তবে ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন গতি পায়।
ওই বছর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা তুলে দিয়েছিল সরকার। সেই পরিপত্র বাতিল করে ২০২৪ সালের জুনে কোটা ফিরিয়ে আনার রায় আসে হাই কোর্ট থেকে।
এরপর কোটা সংস্কার আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো, যাতে শেষ পর্যন্ত অবসান ঘটে টানা দেড় দশক ধরে শাসন করে আসা আওয়ামী লীগ সরকারের।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ মুহূর্তে শেখ হাসিনা সরকার যে কোটা ব্যবস্থা চালু করে গেছে, তাতে কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত হয়নি। এরপর বছর পেরোলেও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আন্তঃসম্পর্কীয় কোটানীতির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

শিক্ষক হতে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন না নারীরা
চাকরির প্রশ্নে এতোদিন গ্রাম ও মফস্বল এলাকার ছাত্রীদের বড় অংশের আগ্রহ ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার। কোটার জন্য তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতায় পাওয়া এই চাকরি বাড়ির অদূরে হওয়ায় এবং সরকারি সুবিধা মেলায় পরিবারও বাধা হয়ে দাঁড়াত না।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা বাতিল করার উদ্যোগ নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিদ্যালয় অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আকতার খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বিন্যাস নিয়ে আপিল বিভাগের একটি রায় আছে। ওই রায় অনুযায়ী প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। সে রায়কে ইনকর্পোরেট করে শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
এর আগে ২০১৯ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিধিমালা করা হয়েছিল। ওই বিধিমালা অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষকের সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদে ৬০ শতাংশ নারী প্রার্থীদের মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ পোষ্য প্রার্থীদের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছিল।
তবে ৮০ শতাংশ কোটা পুর্ননির্র্ধারণ করে চলতি বছরের শুরুতে ওই বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এর মধ্যে গত ১৫ মে এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী কোটা বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতদিন শহরাঞ্চলের বেসরকারি স্কুল-কলেজে মোট শিক্ষক পদের ৪০ শতাংশ এবং মফস্বল অঞ্চলের বেসরকারি স্কুল-কলেজে মোট শিক্ষক পদের ২০ শতাংশ পদে নারী প্রার্থী নিয়োগ দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসিএ নারী কোটায় নির্ধারিত এ পদগুলোতে পুরুষ প্রার্থীদের সুপারিশ করত না। এবার সেই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।
‘পিছিয়ে পড়ছেন’ আদিবাসী প্রার্থীরা
সরকারি চাকরিতে আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কোটা ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ করায় ইতোমধ্যে আদিবাসী জনগোষ্ঠির প্রার্থীরা পিছিয়ে পড়তে শুরু করেছেন বলে মনে করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অলিক মৃ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই ছাত্র নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদিবাসী প্রার্থীরা সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে পিছিয়ে পড়তে শুরু করেছেন। ৪৪তম বিসিএসের আদিবাসী কোটায় কোনো প্রার্থী চূড়ান্ত সুপারিশ পাননি বলে জানতে পারছি।
“আগে যেখানে ১০০টি পদে নিয়োগ হলে আদিবাসী প্রার্থীদের জন্য পাঁচটি আসন সংরক্ষণ করা হত, এখন সেখানে ১০০টির কম পদে নিয়োগ হলে একজন প্রার্থীও কোটা সুবিধা পাবে না।”
বাস্তবতার নিরিখে আদিবাসীদের কোটার হার ‘পুনর্বিবেচনা করা উচিত’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘আরও কয়েক বছর নারী কোটার প্রয়োজন ছিল’
অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক মনে করেন, এখনও লিঙ্গ সমতা অর্জিত না হওয়ায় আরও কয়েক বছর সরকারি চাকরিতে নারী কোটার প্রয়োজন ছিল।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোটা আন্দোলনকারীরা তো কোটা চায়নি, সেদিক থেকে ঠিক আছে।
“তবে আমাদের স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও আমরা জেন্ডার সমতা অর্জন করতে পারিনি। তাই চাকরির ক্ষেত্রে আরও কয়েকবছর নারী কোটা থাকা প্রয়োজন ছিল।”
নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা সংগঠন নারীপক্ষের এই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বলেন, “ভর্তির ক্ষেত্রে মেয়েদের আলাদা কোটা না হলেও চলবে। তবে চাকরির ক্ষেত্রে সমান যোগ্যতাসম্পন্ন দুজন প্রার্থী যদি থাকেন, তবে তাহলে আমার মতে- নারী প্রার্থীর চাকরিটা পাওয়া উচিত।
“কারণ তাদের নানাভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। এটাকে নারীদের জন্য কোটা বলব না। তবে তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমাদের সংবিধানেও পিছিয়ে পড়াদের সামনে নিয়ে আসার কথা বলা আছে।”
সংবিধানের ১৯(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন৷”
একইভাবে ২৮(৪) অনুচ্ছেদ বলা আছে, “নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।”

‘নারী কোটা বাতিল হওয়ায় বৈষম্য বাড়বে’
সরকারি চাকরিতে নারী কোটা বাতিল হওয়ায় বৈষম্য বাড়বে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। তার ভাষ্য, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কোটাটা জরুরি ছিল।
ফওজিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ন্যায্যতা বাজায় রাখতে নারীদের জন্য প্রোঅ্যাকটিভ কর্মসূচি দরকার। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী কোটা বাতিল হয়েছে। এর ফলে সমাজে বৈষম্য আরও বাড়বে।
“নারীদের এগিয়ে নিয়ে আসতে শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে কোটা প্রয়োজন ছিল। সমতা প্রতিষ্ঠার আগেই যদি বিশেষ ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়, তাহলে সামাজিক ভারসাম্য কি আরও বিপন্ন হবে না?”
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী কোটা পুনর্বহালে দাবিতে সোচ্চার রয়েছে। সংগঠনটি প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে ২০ এপ্রিল একটি বিবৃতি দিয়েছিল।
এতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫-এর খসড়ায় আগের ৬০ শতাংশ নারী কোটা রাখা হয়নি, যা নারীর ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিবন্ধকতা স্বরূপ। বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নারী কোটা না রেখে বিধিমালার খসড়া তৈরি করায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
পরিষদ বলছে, একটি শিশুর প্রথম শিক্ষার স্তর হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা, যেখানে নারী শিক্ষকরা শিশুর মনোজগতকে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। একজন শিশুর মনো-সামাজিক বিকাশে মায়ের অবদানের পাশাপাশি নারী শিক্ষকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। দেশের সব স্তরে নারীর সমঅংশগ্রহণ, সমসুযোগ ও সমঅধিকার থেকে অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী এখনও অনেক পিছিয়ে।
“টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৫ পূরণ করতে হলেও নারীর জন্য বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সংরক্ষণ থাকা প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষকপদে নারী কোটা বিলুপ্ত হলে একদিকে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের ক্ষমতায়নের পথ রুদ্ধ হবে, অপরদিকে দেশের জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা বাতিলের পরও প্রতিবাদ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। গত ২৫ মে এক বিবৃতিতে পরিষদ বলছে, অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি প্রাথমিকের পর এবার বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে ৩০ শতাংশ নারী কোটা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী কোটা বাতিলের এ ধরনের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
গ্রামীণ ও পশ্চাৎপদ এলাকার বহু শিক্ষিত নারী শুধু এ কোটার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়, নারী শিক্ষকদের উপস্থিতি স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে; বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মহিলা পরিষদ মনে করে, একের পর এক নারী কোটা বাতিলের ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষাখাতে তাদের অংশগ্রহণে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

কোটা পুনর্বিবেচনার আহ্বান
কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নারীদের সামনের সারিতে দেখা গিয়েছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলনে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের কম দেখা গেলেও শেখ হাসিনার পতন দাবির আন্দোলনে দেখা গেছে সম্মুখসারিতে।
অংশীজনদের মত নিয়ে চাকরির কোটা পুনর্বিন্যাস করা উচিত বলে মনে করেন অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উমামা ফাতেমা।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আন্দোলনের সময় যখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৭ শতাংশে নামিয়ে দেওয়া হয়, তখন আমরা এ কথাটা বলেছিলাম যে, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করা জরুরি- যেন কারো পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি না উঠে।
“নারী যেমন আছে, তেমন মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী সবার সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান আমরা জানিয়েছিলাম। কিন্তু আন্দোলনের মুখে তখন সরকার তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপন জারি করে দেয়।
“এখন যেহেতু নারী কোটাটা নেই, এটা নিয়ে নারী সংগঠনগুলো কথা বলতে পারে। সরকারও কোটাটা রিভিউ করতে দেখতে পারে। তবে যে কোনো চাকরির ক্ষেত্রে যদি নারীর সেইফটি-সিকিউরিটি থাকে, তবেই নারীদের এগিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব। কর্মক্ষেত্রে নারীর সেইফটি-সিকিউরিটি দেওয়া–এটা তো সরকারের দায়িত্ব। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ অনেকটা বাড়বে।”
‘কোটা ১০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়’
অংশীজনদের মত নিয়ে কোটা পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানিয়েছে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল এনসিপিও (জাতীয় নাগরিক পার্টি)। দলটি মনে করে, বিদ্যমান কাঠামোতে চাকরির কোটা ১০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্মসদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে, সরকার অংশীজনদের মতামত নিয়ে, তারা কোথায় পিছিয়ে আছে–সেটি শুনে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করতে পারে। তবে বিদ্যমান কাঠামোতে তা কোনোভাবেই ১০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয় এবং এর মাধ্যমে মেইনস্ট্রিমের অংশীজনরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
“চাকরির চেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রাধিকার জরুরি। কারণ আপনি দেখবেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর যারা কোটা সুবিধা পান- তারা হয়ত ওই গোষ্ঠীর কোনো উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান বা তার বাবাও হয়তো নৃগোষ্ঠীর কোটায় প্রতিষ্ঠিত।
“কিন্তু ওই গোষ্ঠীর প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা কিন্তু প্রাথমিক বা মাধ্যমিকের গণ্ডি পাড়ি দিতে পারছে না। তাই চাকরিতে কোটা সুবিধা বাড়ালেও ওইসব জনগোষ্ঠীর প্রান্তিক জনগণ উপকৃত হবে না।”

সরকারের কী ভাবনা
গত বছরের ২৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারির দিনে সংবাদ সম্মেলন করে তখনকার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, আপিল বিভাগের রায় অনুসারে কোটা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
আপিল বিভাগের রায়ের কোনো কিছু পরিবর্তনের ক্ষমতা ‘নির্বাহী বিভাগের নেই’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
এরপর ক্ষমতার পালাবদলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যখন নানা দিকে পরিবর্তনের হাওয়া বইছিল, তার মধ্যে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গত ২৫ মার্চ একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটি এখনো তাদের সুপারিশ জমা দেয়নি।
ওই কমিটির প্রধান ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি) মোহাম্মদ শামীম সোহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা একাধিক সভা করেছি, নানা ক্ষেত্র থেকে তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করছি তথ্যগুলো সংগ্রহ ও পর্যালোচনার পর সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।
“আমাদের কমিটিটি নতুন করে কোটা বিন্যাসের সুপারিশ প্রণয়ন করবে না, বরং আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে যে ৭ শতাংশ কোটা বণ্টন করা হয়েছে, সেটি প্রয়োগের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ পাঠাবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসারে যে কোটা বণ্টন করা হয়েছে, তার হার একই থাকবে।”
পুরনো খবর