Published : 14 Feb 2026, 02:27 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ২৯৭ জনের গেজেট প্রকাশের পর নতুন আইনপ্রণেতাদের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত তিন দিনের সময়সীমা বিবেচনায় নিয়ে সোমবারকে সম্ভাব্য দিন ধরে সংসদ সচিবালয় প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন ২৯৭ জন নির্বাচিত সদস্যের গেজেট প্রকাশ করে শুক্রবার রাতে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮(২ক) অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিতে হয়।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “আমাদের প্রস্তুতি তো থাকবেই। প্রস্তুতি আমরা অনেক আগে থেকেই শুরু করেছি। এটা আমাদের সাধারণ দায়িত্ব।”
শপথের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এটা আমাদের বিষয় না, আমরা প্রস্তুত। যেদিন বলা হবে, সেদিনই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারব।”
শনিবার সংসদ সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “শপথের দিন সোমবারকে ধরেই সব প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।”
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন সোম-মঙ্গলবারের মধ্যেই শপথ পাঠ করানো হবে।
তবে স্পিকারের অবর্তমানে কে শপথ পাঠ করাবেন সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য জানাননি তিনি। নির্বাচনের পরদিন থেকে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, “এই বিষয়গুলো পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে। শপথের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে। অলরেডি এমপিদের গেজেট প্রকাশ হয়েছে এবং বাকি কাজগুলো খুব দ্রুতগতিতে চলছে। চিফ অ্যাডভাইজার কালকেও কাজ করেছেন, আজকেও চিফ অ্যাডভাইজার কাজ করছেন এবং পুরো টিম কাজ করছে, ক্যাবিনেট কাজ করছে স্মুথ ট্রানজিশনের জন্য।”
গেজেটের পর প্রক্রিয়া
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল ঘোষণা হয়েছে। আদালতের আদেশে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল পরে দেওয়া হবে।
ইসি ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন। ২৯৭ আসনে ভোটের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
গেজেট প্রকাশের পর শপথ আয়োজন, এরপর সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান, এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন।
শপথ না নিলে কার্যকর নন
সংসদীয় কার্যপ্রণালীর সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেন, “শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত কেউ সংসদ সদস্য হিসেবে কার্যকর হন না। ফলে সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট, চিফ হুইপ মনোনয়ন, সংসদীয় দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, এসব শপথের পরই কার্যকর হবে।”
তার কথায়, দল তাদের সংসদীয় নেতা বা চিফ হুইপের নাম স্পিকারের কাছে জানায়। স্পিকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে সেসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
এবার স্পিকার পদ শূন্য থাকায় প্রথম অধিবেশন কে পরিচালনা করবেন তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, অতীতে এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে জ্যেষ্ঠ কোনো সদস্যকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দিয়ে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করার নজির আছে।
‘যেদিন এমপি, সেদিনই মন্ত্রী’
আইনপ্রণেতাদের শপথের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা বলেন, শপথের দিনই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগোতে পারে। তিনি বলেন, “যেদিন সকালে এমপি, সেদিনই বিকালে সরকার” এমন সম্ভাবনাই বেশি। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারির প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।
যদিও সংসদ সদস্যদের শপথের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা একই দিনে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
সংসদ ভবন প্রস্তুত
শপথ অনুষ্ঠান সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ছাত্র-জনতার ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামতও সম্পন্ন হয়েছে।
সংসদ ভবনের দায়িত্বে থাকা শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজ শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সংসদ রেডি। সব অফিস রেডি। এখন শেষ মুহূর্তের ক্লিনিং আর মপিং চলছে।”
শপথ কক্ষ, অধিবেশন কক্ষ, স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এমপি হোস্টেলসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে।
জ্যেষ্ঠ সদস্যদের তালিকা
এদিকে সকালে সংসদ সচিব বিগত দিনের নির্বাচিত সদস্যদের একটি তালিকা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। তালিকা অনুযায়ী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও জয়নুল আবদিন ফারুক সবচেয়ে বেশি বার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এবং এবারও নির্বাচিত হয়েছেন।
গেজেট প্রকাশের পর শপথ, এরপর সরকার গঠন ও প্রথম অধিবেশন এই ক্রমধারায় নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
নতুন আইনপ্রণেতাদের শপথ 'যেদিন বলবে সেদিনই': সচিব
শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই: প্রেস সচিব