১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: বার্ন ইনস্টিটিউটে ‘আশঙ্কাজনক’ ৫ জন

মাইলস্টোনের ঘটনায় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এখন ৪০ জনের চিকিৎসা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Jul 2025, 07:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:27 PM

ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন পাঁচ শিক্ষার্থীর অবস্থা এখন ‘আশঙ্কাজনক’।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন শুক্রবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দিয়ে বলেন, সেখানে এখন ৪০ জনের চিকিৎসা চলছে।

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে ‘ক্রিটিক্যাল পেশেন্ট’ আছে পাঁচজন, আর ‘সিভিআর পেশেন্ট’ আছে ১০ জন। ‘ইন্টারমেডিয়েট’ গ্রুপে ২৫ জন রয়েছে। এর মধ্যে আমরা ১০ জনকে ‘পোস্ট অপারেটিভে’ রেখেছি। বাকি ১৫ জনকে কেবিনে শিফট করেছি।”

শনিবার চার-পাঁচজনকে ছুটি দেওয়ার আশা প্রকাশ করে নাসির উদ্দীন বলেন, পরবর্তীতে প্রতিদিনই কিছু সংখ্যক রোগীকে ছুটি দিতে পারবেন বলে তাদের প্রত্যাশা।

“এর মধ্যে আরেকটা ভালো খবর আছে। যদিও আজকে আমরা দুইজন বাচ্চাকে হারিয়েছি। আমাদের ভ্যান্টিলেশনে ছিল যে কয়জন, তাদের মধ্যে দুইজন সজাগ অবস্থায় নিজেরা নিজেরা নিশ্বাস নিতে পারছে,” বলেন তিনি।

মাইলস্টোনের ঘটনায় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীনদের হালনাগাদ তথ্য শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন।

মাইলস্টোনের ঘটনায় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীনদের হালনাগাদ তথ্য শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন।

রোগীদের অবস্থা প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক বলেন, “এই পরিবর্তনগুলো আজকে আপনাদের জানালাম। এর বাইরে নতুন কোনো তথ্য নাই।”

বার্ন ইনস্টিটিউটে শুক্রবার সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে ১০ বছর বয়সী আইমান মারা যায়। এর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর বেলা ১টা ৫ মিনিটে ১৩ বছর বয়সী মাকিনের মৃত্যু হয়।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আইমানের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাকিনের বাড়ি গাজীপুরে। মাইলস্টোনের ঘটনায় সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৩ জনের প্রাণ গেছে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আইমান ও মাকিনকে হারানোর কথা জানিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক বলেন, “আমি নিজে উপস্থিত থেকে লাশ হস্তান্তর করেছি। তাদের গ্রামের বাড়িতে মরদেহ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সকল কার্যক্রমের জন্য জেলা সিভিল সার্জন অফিসকে অবগত করা হয়েছে।”

সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত যে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই শিশু।

দগ্ধ ও আহত ৫০ জন এখনও জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট, সিএমএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

আরও পড়ুন-চলে গেল মাইলস্টোনের মাকিনওমৃত্যু বেড়ে ৩৩