Published : 21 May 2026, 05:30 PM
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়ক উপকরণ নিশ্চিতে আসছে বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর ১ শতাংশ ‘ডিজঅ্যাবিলিটি সারচার্জ’ আরোপের দাবি করেছে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস’ (বি-স্ক্যান)।
প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা এ সংগঠনটি বলছে, তামাক থেকে আদায় করা অর্থ দিয়ে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরে বিস্ক্যানের পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ।
বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিবন্ধীবান্ধব বরাদ্দ নিশ্চিত করতে বি-স্ক্যান ও দাতব্য সংস্থা ‘সাইটসেভার্স’ মিলে এ সংবাদ সম্মেলন করে।
সেখানে ইফতেখার মাহমুদ বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সীমিত কর্মসংস্থান ও অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে বর্তমান ভাতা দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা বাড়িয়ে মাসিক ৩ হাজার টাকা এবং শিক্ষা উপবৃত্তি ২ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবি করেন তিনি।
একইসঙ্গে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভাতা ও উপবৃত্তি- উভয় সুবিধা একসঙ্গে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইফতেখার মাহমুদ বলেন, গুরুতর প্রতিবন্ধী ৪০ হাজার ব্যক্তির জন্য মাসে ৬ হাজার টাকা হারে ‘কেয়ারগিভার’ বা ‘ব্যক্তিগত সহায়তাকারী ভাতা’ চালু করা প্রয়োজন।, প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এক হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে। যেখান থেকে তারা ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন।”
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী কর্মী নিয়োগের কোটা পূরণ না হলে, সেই ‘শূন্য কোটার’ অর্থ দিয়ে একটি ‘বেকার বীমা তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব দেন বিস্ক্যানের পরিচালক। এই তহবিল থেকে কর্মক্ষম বেকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত মাসিক ৮ হাজার টাকা করে বেকার ভাতা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়-
> রাজস্ব খাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকাভুক্ত ৫০ ধরনের সহায়ক প্রযুক্তি ও উপকরণ শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়া এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকা করা।
> গণস্থাপনায় প্রবেশ নিশ্চিতে সব জেলায় ‘এক্সেস অডিট’ পরিচালনা এবং সংস্কারের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া। নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর ও শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করার সুযোগ দেওয়া, বার্ষিক কর ৫০% মওকুফ করা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ১০০% ও পরিবারে প্রতিবন্ধী মানুষ থাকলে ৫০% নিবন্ধন ফি মওকুফের বিধান রাখা।
> বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের পরিধি অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি অনুদান দেওয়া এবং কার্যালয় ভাড়ার ওপর কর ছাড় দেওয়া।
> প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা সম্প্রসারণ, বাংলা ইশারা ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং দোভাষী সেবাকে ভ্যাট ও করমুক্ত করা।
> শিশু ও নারী সংবেদনশীল বাজেটের মতো মন্ত্রণালয়ভিত্তিক আলাদা ‘প্রতিবন্ধী সংবেদনশীল বাজেট’ করা।
বি-স্ক্যানের নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন। সেখানে এসপিইউএস নির্বাহী পরিচালক উজ্জলা বণিক, এপিপিইউএস সভাপতি লিয়াকত আলী এবং ডিআইপিএস এর সহসভাপতি মাসুদ আনোয়ার খান ও ডিডিপির নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।