Published : 30 Sep 2024, 05:57 PM
তুমুল গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৫৬ দিন হাসপাতালে থাকার পর অবশেষে মারা গেলেন মো. কারিমুল ইসলাম।
২২ বছরের এই তরুণ সোমবার বিকাল সোয়া ৫টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় কারিমুল হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মো. শাহাব উদ্দিনের ছেলে। যাত্রাবাড়ী লেবু ভাণ্ডার আড়তের কর্মচারী ছিলেন তিনি।।
কারিমুল পরিবারের সঙ্গে যাত্রাবাড়ীর কুতবখালি এলাকায় থাকতেন। তার স্ত্রী মোছা. ময়না বেগম অন্তঃসত্ত্বা।
কারিমুলের ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, গত ৫ অগাস্ট দুপুরে যাত্রাবাড়ী মোড়ে থানার সামনে বুকে, ডান হাতে ও থুতনিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার ভাই আহত হয়েছিলেন। সেদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, কারিমুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ছাত্ররা যে আন্দোলন শুরু করে তা তীব্রতা পায় জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে। ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে রংপুরের আবু সাঈদসহ সারাদেশে ছয়জন নিহত হওয়ার পর আন্দোলন সহিংস আকার ধারণ করে।
এক সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে রূপ নেয়। তীব্র ছাত্র-গণ আন্দোলনের মুখে ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। সরকার পতনের আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণ ঝরে অনেকের।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর সরকারের তরফে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে নিহতের সংখ্যা ৭০৮ জন বলে তুলে ধরা হয়।
তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক উপ কমিটি আন্দোলনে নিহতদের প্রাথমিক তালিকায় ১,৫৮১ জনের তথ্য যুক্ত করেছে।
আরও পড়ুন-