Published : 05 Jan 2026, 02:29 PM
জুলাই আন্দোলন ঘিরে হত্যা মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের পাঠিয়েছে আদালত।
এছাড়া আরেকটি হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
পৃথক দুই তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল মিয়া এ আদেশ দেন।
গত ২৪ ডিসেম্বর দীপঙ্কর তালুকদারের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মাইনুল ইসলাম খান পুলক। আর ২৫ ডিসেম্বর কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন বনানী থানার এসআই ইয়াছির আরাফাত।
আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য এদিন ঠিক করা হয়। শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “ আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দীপঙ্কর তালুকদারের সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করি এবং কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রার্থনা করি।”
শুনানি নিয়ে আদালত দীপঙ্কর তালুকদারের পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করে এবং কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারকে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার শাহবাগে ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির হত্যা মামলায়।
এই মামলার অভিযোগে বলা হয়, “সরকার পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টে শাহবাগ থানার চানখারপুল এলাকায় ছাত্র জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির। দুপুরে আসামিদের ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।”
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার গত ১৪ মার্চ শাহবাগ হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৩৫১ জনকে এজাহারনামীয় ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে গুলিতে নিহত কারখানার কর্মী মো. শাহজাহান হত্যা মামলায়।
শাহজাহান হত্যা মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহজাহান মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে মিছিলে অংশ নেন। সে সময় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলে গুলিবর্ষণ করেন। শাহজাহানের বুকে ও পেটে দুটি গুলি লাগে। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
“সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান শাহজাহান। এ ঘটনার পর ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর শাহজাহানের মা সাজেদা বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।”
আওয়ামী সরকারের পতনের পর ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশানের বাসা থেকে কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ওই রাতেই তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তার অসুস্থতার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে পুলিশ। সুস্থ হওয়ার পর ২২ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত পল্টন থানার এক মামলায় কাজী জাফর উল্যাহকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এছাড়া গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোবহানবাগ থেকে দীপঙ্কর তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।