তামিম হত্যা মামলায় নাম: বিএনপি নেতা রবির দলীয় পদ স্থগিত
কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব ‘স্পষ্ট না হওয়ায়’ তার পদ স্থগিত করার কথা বলেছে বিএনপি।
দীপ্ত টেলিভিশনের কর্মকর্তা তানজিল জাহান ইসলাম তামিম হত্যা মামলায় নাম আসার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবিকে কারণ দর্শানো চিঠির পর তার পদও স্থগিত করেছে দলটি।
সোমবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে রবির পদ স্থগিতের কথা বলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “তানজিল জাহান তামিম নিহত হওয়ার ঘটনায় আপনার (রবি) জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে গত ১১ অক্টোবর আপনাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল। আপনি কারণ দর্শানো নোটিশের যে জবাব দিয়েছেন সেখানে আপনার বক্তব্য স্পষ্ট করতে পারেননি।
“সুতরাং আপনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপনি দলের যে সকল পদে দায়িত্ব পালন করছেন, সেই সমস্ত পদ নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হল।”
ঢাকার রামপুরায় ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বৃহস্পতিবার তামিমকে হত্যার ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তার পরিবার। এর মধ্যে তিন নম্বর আসামি রবি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. রুহুল কবির খান এর আগে বলেন, “এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মামুন এবং বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবির প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে তাদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হত্যা মামলায় আসামি এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার খবরের পর শুক্রবার রবিকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠায় বিএনপি। তিন দিন পর তার পদ স্থগিতের কথাও জানাল দলটি।
দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তামিম রামপুরার মহানগর আবাসিক এলাকার চার নম্বর রোডের ডি-ব্লকের একটি বাড়ির আট তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন।
ওই বাড়ির জমির মালিক তামিমের বাবাসহ মোট তিনজন।
ভবন নির্মাণের বিষয়ে ডেভেলপার কোম্পানি প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজের সঙ্গে যে চুক্তি হয় তাতে জমির মালিককে পাঁচটি ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কোম্পানি দুটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করলেও তিনটি ফ্ল্যাট ভবন মালিকের হাতে তুলে দেয়নি।
ওই তিনটির মধ্যে একটি ফ্ল্যাট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মামুনের শ্বশুরের কাছে বিক্রি করে প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ। এ নিয়েই গত বছর তিনেক ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
বৃহস্পতিবার ওই দ্বন্দ্বের জের ধরে তামিমদের বাড়িতে ঢোকেন ডেভেলপার কোম্পানির ‘প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ’ এর লোকজন। তাদের সঙ্গে বহিরাগত কয়েকজন ছিলেন। তারা ল্যান্ড ওনারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তারা তামিমের বুকে কিল-ঘুষি দেন। এরপর তার গলা টিপে ধরেন। এরপর স্থানীয়দের কয়েকজন ওই বাড়ি থেকে তামিমকে উদ্ধার করে মনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন-
