Published : 20 Feb 2026, 11:23 PM
রাজধানীর কদমতলীর সাত বছরের এক শিশুর ড্রামে ভর্তি লাশ উদ্ধারের পর এক নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ বলছে, দুই পরিবারের বিরোধ থেকে প্রতিবেশী ওই নারী শিশুটিকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন।
আর লাশ গুম করতে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ফেলে আসেন গেন্ডারিয়ার লোহারপুল এলাকায় ময়লার স্তূপের পাশে।
শুক্রবার ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয় বুধবার। সেদিনই প্রতিবেশী মায়া বেগম ওরফে লাবনী নামে ৪৫ বছরের নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা ‘স্বীকার করেন’ তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার শিশুটির মা মুন্নি আক্তার কদমতলী থানায় গিয়ে বলেন, তার ছেলে খেলতে বের হয়ে আর ফেরেনি। তখন একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এরপর বুধবার রাত ৮টার দিকে গেন্ডারিয়া থানা এলাকায় প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে এক শিশুর লাশ পাওয়া যায়। মুন্নি আক্তারকে গেন্ডারিয়া থানায় নিয়ে গেলে তিনি লাশটি তার নিখোঁজ ছেলের বলে শনাক্ত করেন।
কদমতলী থানা পুলিশের তদন্ত টিম সিসি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে। লাশের সঙ্গে থাকা কাপড় এলাকাবাসীকে দেখিয়ে শনাক্ত করার চেষ্টা চালায়। পরে শিশুটির বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বলে, ওই ধরনের কাপড় প্রতিবেশী মায়া বেগমের মেয়ের গায়ে দেখেছে।
এরপর পুলিশ মায়ার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন সেরকম কাপড় নিজের থাকার কথা বললেও খুঁজে বের করে দিতে পারেননি মায়া। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে পুলিশের।
ডিএমপি বলছে, আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও দেখে প্রতিবেশী মায়া বেগমকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তিনি ঘটনা স্বীকার করে বলেন, কয়েকদিন আগে তার মোবাইল ফোন চুরি হয়। তাতে তিনি মুন্নি আক্তারের মেয়েকে সন্দেহ করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এর জেরে মঙ্গলবার রাস্তায় মুন্নির শিশু ছেলেকে একা পেয়ে খাবারের কথা বলে বাসায় ডেকে নেন মায়া। চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের কথা জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে রেগে শিশুটিকে জোরে থাপ্পড় মারেন। তখন শিশুটির মাথা গিয়ে লাগে খাটের সঙ্গে। মাথা ও মুখ গুরুতর আঘাত পেয়ে সেখানেই মারা যায় শিশুটি।
পুলিশ বলছে, মায়া ঘরে থাকা প্লাস্টিকের চালের ড্রামে ভরে রাখে শিশুর লাশ। পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অটোরিকশায় করে সেটি নিয়ে গেন্ডারিয়ার লোহারপুল এলাকায় ময়লার স্তূপের পাশে ফেলে আসেন।