Published : 30 Jun 2026, 06:28 PM
দুর্নীতির জন্য কেবল সরকারের ওপর দায় দিলে তা মানতে নারাজ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, “দুর্নীতির দায় শুধু রাজনৈতিক সরকারের নয়, রাষ্ট্রের স্থায়ী অংশ, অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও রয়েছে। সরকার চায় অতীত ও বর্তমান সব সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ সমানভাবে তদন্তের আওতায় আসুক।”
অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় সেবাখাতে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি হয়েছে বলে সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক জরিপে যে তথ্য এসেছে, সে বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে উপদেষ্টার এ মন্তব্য আসে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দেন উপদেষ্টা জাহেদ।
টিআইবির ওই দাবি তিনি বলেন, “সরকার পরিচালনায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসন উভয় অংশই থাকে। সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে, তা দীর্ঘদিনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা।
“অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেরা ওই ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন দাবি করা ঠিক হবে না। তবে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি বিদ্যমান রয়েছে, যা দূর করতে সরকার কাজ করছে।”
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এমন দাবি তারা করছেন না, তবে দুর্নীতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
আগামী বছর টিআইবির প্রতিবেদনে দেশে দুর্নীতির পরিমাণ কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হওয়া ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো তামাদি নেই। তাই যে কোনো সময় অভিযোগের তদন্ত করা সম্ভব।
“দুর্নীতি দমন কমিশন একটি স্বাধীন কমিশন। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের কেউ কিংবা বর্তমান সরকারের কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে দুদকের উচিত স্বাধীনভাবে তদন্ত করা। সরকার এ ধরনের তদন্তে কোনো বাধা দেবে না বরং কমিশনের স্বাধীন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে।”
আরো পড়ুন
শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রচার করা সংবাদমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা