Published : 16 Dec 2025, 04:33 PM
একাত্তর পরবর্তী সময়ে যারা এ রাষ্ট্রকে ‘অকার্যকর’ করার চেষ্টা করেছে, তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে ‘ইনসাফ’ প্রতিষ্ঠাকেই বিজয় দিবসের ‘প্রতিজ্ঞা’ হিসেবে নেওয়ার কথা বললেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম।
তিনি বলেছেন, “বিজয় দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হলো, গত ১৬ বছরে এবং গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশকে যারা একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছে, বাংলাদেশের অবারিত সম্ভাবনাকে নষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়েছে; গুম, খুন, আয়নাঘর প্রকল্প এবং সর্বশেষ ২৪-এর জুলাই বিপ্লবে যারা গণহত্যা ও শিশুহত্যা করেছে।
“সেই শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচারের আওতায় এনে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। এটাই আজ আমাদের প্রথম প্রতিজ্ঞা।”
মঙ্গলবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ডাকসু নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বীর শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, আজাদির লড়াই হয়েছে; প্রত্যেকটিই আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।”
১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪-এর প্রত্যেকটি আন্দোলনই ‘আবেগের জায়গা’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “১৯৭১ সাল আমাদের জাতীয় অর্জন। ১৯৭১-এর সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা আমাদের মানচিত্র পেয়েছি, পতাকা পেয়েছি এবং ১৬ ডিসেম্বরের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছি। স্বাধীন ভূখণ্ডে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে আকাঙ্ক্ষা, একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, সে মুক্তি স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও আসেনি।
“বিশেষ করে গত ১৬ বছরে যে ফ্যাসিবাদী কাঠামো ছিল, সে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মাধ্যমে আমাদের দেশের অবারিত সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে নতুনভাবে আমাদের সামনে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে।”
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিষয়ে সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, হাসিনাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে তার রায় কার্যকর করতে হবে। একইসঙ্গে যত অপরাধী, গণহত্যাকারী ও শিশুহত্যাকারী দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে স্বাধীন বাংলাদেশে বিচার করতে হবে।
“একইসঙ্গে আমাদের সহযোদ্ধা, যিনি সবসময় আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যিনি কাজ করছেন; আমাদের সহযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদিকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। সেই সন্ত্রাসীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখছি: রাশেদ খাঁন
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁনও বলেছেন স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার কথা।
তিনি বলেন, “আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা স্বপ্ন দেখেছিলেন—এমন একটি রাষ্ট্র; যেখানে গণতন্ত্র থাকবে, কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, যেখানে ন্যায়বিচার থাকবে। কিন্তু আমরা দেখলাম যে আওয়ামী রেজিমে যেভাবে মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, একটি ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল; যারা এই ব্যবস্থা কায়েম করেছিল, তারা নিজেদেরকে সবসময় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করেছে।
“সেই স্বপক্ষের শক্তির যেভাবে পতন হয়েছে, সেটি আমাদের সবার কাছে কিন্তু দৃশ্যমান। এখন আমরা সবাই স্বপ্ন দেখছি নতুন বাংলাদেশ গঠনের। ২০২৪ সালের যে গণঅভ্যুত্থান, সেটি আমাদেরকে সুযোগ দিয়েছে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করার।”
তার দৃঢ় প্রত্যয়, “আমরা যারা তরুণরা রয়েছি আমরা মনে করি যে, অতীত যে পুরাতন সিস্টেমের রাজনীতি, সেই রাজনীতি বাংলাদেশে আর করতে দেওয়া যাবে না। আপনারা জানেন যে সামনে নির্বাচন এই নির্বাচনের জন্য গোটা জাতি মুখিয়ে আছে এবং এই নির্বাচন অবশ্যই ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হতে হবে এবং আমি মনে করি যে এটি আসলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।”
রাশেদ খাঁন মনে করেন, আগামী নির্বাচন শুধু ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ হলেই হবে না, সেটি হতে হবে ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত’।
“এই নির্বাচন বানচাল করার জন্য ইতোমধ্যে চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনকে টার্গেট করে আওয়ামী লীগ চক্রান্ত শুরু করেছে। ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তারা কিন্তু নানান ভাবে ফিরে আসার চক্রান্ত করছে।”