Published : 08 Sep 2026, 08:14 PM
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় বিআরটিএ কার্যালয়ে ছদ্মবেশে থাকা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের ১৫ হাজার টাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এক আনসার সদস্য।
এ ঘটনায় ওই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে দুদক।
‘ঘুষ ও দালালচক্রের’ দৌরাত্ম্যের অভিযোগে মঙ্গলবার বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো-২ সার্কেল কার্যালয়ে অভিযান চালানোর সময় ওই আনসার সদস্যকে শনাক্ত করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট দল।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এ অভিযান চালানোর তথ্য দেন কমিশনের জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা পেতে দালালের দৌরাত্ম্য ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
দুদকের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা ছদ্মবেশে ওই কার্যালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন বলে তুলে ধরেন তিনি। বলেন, এসময় এক আনসার সদস্য ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হবে বলে জানান ওই আনসার সদস্য।
পরে তাকে বিআরটিএর উপপরিচালকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। দুদকের ভাষ্য, সেখানে অভিযোগের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।
তার মোবাইল ফোন ও বিকাশের তথ্য যাচাই করে দুদক বলছে, ওই আনসার সদস্য প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, ইকুরিয়ার ওই বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে মাসে এক থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করা হয়। কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশও এতে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, মালিকানা পরিবর্তন ও নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবায় নির্ধারিত ফির বাইরে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া কার্যালয়ের সামনে গড়ে ওঠা প্রায় ৪৫টি অবৈধ দোকান ও ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে মাসিক ভাড়া ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগ আসার পর দুদকের এনফোর্সমেন্ট দল এগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।