Published : 22 Jul 2025, 08:47 PM
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভিড় ‘নিয়ন্ত্রণের সময়’ কয়েকজন সেনাসদস্যের হাতে ‘শিক্ষার্থীদের মারধরের’ যে অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর।
ঘটনাটিকে ‘অনভিপ্রেত’ হিসেবে বর্ণনা করে আইএসপিআর বলেছে, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার আইএসপিআর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মাইলস্টোন স্কুল ভবনে বিমান বাহিনীর জঙ্গি বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরের পরিস্থিতিরও ব্যাখ্যা দিয়েছে।
বলা হয়েছে, উদ্ধার কাজ নির্বিঘ্ন করতে সেখানে ভিড় করা ‘একদল উৎসুক জনতাকে’ সরাতে গেলে তাদের সঙ্গে সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের ‘ভুল বোঝাবুঝি ও বাদানুবাদের’ সৃষ্টি হয়, যা এক পর্যায়ে একটি ‘অনভিপ্রেত’ ঘটনার অবতারণা করে।
মাইলস্টোন স্কুলে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত শিশুসহ ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। আর, আহত হয়ে ৬৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর আহত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর সেখানে যাওয়া সংবাদকর্মী, উৎসুক জনতা ও মাইলস্টোনের শিক্ষকদের সঙ্গেও উদ্ধারকারী সদস্যদের বাদানুবাদ, শিক্ষার্থীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা এই ঘটনাসহ ছয় দফা দাবিতে ক্যাম্পাস সংলগ্ন গোলচত্ত্বরে দিনভর বিক্ষোভ করেন। তারা এ ঘটনার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের জনসম্মুখে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ারও দাবি জানান।
এদিন সেনাসদস্যের হাতে ‘শিক্ষার্থীদের মারধরের’ অভিযোগ ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি ওঠার পর ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
এ বিষয়ে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে’ সেনা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলেও জানিয়েছে সরকার।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে প্রধান উপদেষ্টার সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের সব দাবি ‘মেনে নেওয়ার’ আশ্বাস আসে আইন উপদেষ্টার কাছ থেকে।
সেখানে মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সরকার ‘একমত’ বলেও মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল।
আইন উপদেষ্টার ওই আশ্বাসের পর, শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি ‘যৌক্তিক’ জানিয়ে বিবৃতি দেয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কয়েক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনা শেষে আসিফ নজরুল বলেন, “জনগণের ভিড় নিয়ন্ত্রণের সময় সেনাবাহিনীর কর্তব্য পালনকালে কয়েকজন সেনাসদস্য কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর মারধরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেনা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।”
এর পর আইএসপিআর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে দুর্ঘটনার পরপরই কাছের একটি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা চালানো হয়।
উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে দুর্ঘটনাস্থলে ‘উৎসুক জনতার’ ব্যাপক ভিড় দেখা দেয়, যা আহতদের সরিয়ে নেওয়া ও উদ্ধার কার্যক্রমকে বারবার ব্যাহত করে। সেনাসদস্যরা এবং মাইলস্টোন স্কুলের স্বেচ্ছাসেবকরা বারবার অনুরোধ করলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় সময়মতো আহতদের সরিয়ে নেওয়া অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে, প্রাণহানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
সেনাসদস্যরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সাথে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে তুলে ধরে আইএসপিআর বলেছে, “উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত ১৪ জন সেনাসদস্য শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
“উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন, বিকেলের দিকে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু উৎসুক জনতা ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় উদ্ধার কাজে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে, একদল উৎসুক জনতার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়, যা এক পর্যায়ে একটি অনভিপ্রেত ঘটনার অবতারণা করে।”
আইএসপিআর বলেছে, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”