Published : 28 Feb 2026, 03:35 PM
ফাল্গুনের রোদ থেকে ছায়া দিতে একজন বাবা তার মেয়েকে আগলে রেখেছেন মাথার উপরে ছাতা ধরে। কেউ কেউ আবার রোদের মধ্যেই বসে উপভোগ করছেন পাপেট থিয়েটার।
অমর একুশে বইমেলায় শনিবার দুপুরে রোদ-গরমের মধ্যে পুতুল নাটক ঘিরে ছোটদের আগ্রহও ছিল দেখার মত, তাদের সঙ্গে থাকা অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। এর সঙ্গে বাড়তি আনন্দ যোগ করে বায়োস্কোপ।
শনিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে মেলা শেষ হয় রাত ৯টায়। আর ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় ছিল শিশুপ্রহর।
বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "শিশুচত্বরে পাপেট থিয়েটার এবং বায়োস্কোপ দেখতে অনেকে আসছেন। ছোটরা ভীষণ আনন্দ পাচ্ছে।"

কাঁঠালবাগান থেকে বাবার সঙ্গে মেলায় আসা ছোট্ট আবিদ বার বার চলে যাচ্ছিল পাপেট মঞ্চের দিকে।
আবিদের বাবা আনিসুর রহমান বলেন, "আমার ছেলে এই পুতুলদের বাড়ি নিয়ে যেতে চায়। পরে ছেলেকে একটা পুতুলের মুখোশ কিনে দিয়েছি।"
বাসাবো থেকে মাসুমা আইরিন এসেছিলেন দুই সন্তান আয়ান এবং আয়াশকে নিয়ে। শিশুতোষ বইয়ের বিভিন্ন স্টলে ঘুরে ঘুরে তারা বই দেখছিল। এর মধ্যে একটি স্টলে গিয়ে নিজে নিজে রঙ করে ছবিও আঁকে তারা।
আয়ান ও আয়াশ জানিয়েছে, মেলায় এসে ভীষণ ভালো লাগছে তাদের। তবে রোদের কারণে কষ্ট হওয়ার কথাও বলেছে দুই শিশু।
মাসুমা আইরিন বলেন, "পাপেট থিয়েটার আর নানা রকম রঙিন বই দেখে আমার দুই ছেলে ভীষণ খুশি। আর সন্তানদের আনন্দই তো আমারও আনন্দ। তবে রোদের জন্য এখানে কষ্ট হচ্ছে।"

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিমা রেজা বলেন, "আমরা সেখানে সামিয়ানা দিয়ে দিচ্ছি। আশা করি এরপর আর কষ্ট হবে না।"
বইমেলায় 'কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার' মাসব্যাপী 'পাপেট শো' পরিবেশন করবে বলে জানিয়েছে মেলার আয়োজকেরা।
শিশুচত্বরে 'পাপেট থিয়েটার মঞ্চে' শিশুপ্রহর গুলোতে ‘কাকতাড়ুয়া’ প্রদর্শন করছে পাপেট শো 'অপু দীপুর গল্প', 'কুঁজো বুড়ির গল্প', 'বনভ্রমণ', 'বল্টু মামা ও তার সাঙ্গপাঙ্গ'।
বাচ্চাদেরকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতেই এই আয়োজন বলে জানিয়েছেন 'কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার' এর প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক।
তিনি বলেন, "পুতুল নাটকের মাধ্যমে বাচ্চাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, আমরা শিশুদেরকে এক কল্পনার জগতে নিয়ে যাবো যেন তাদের মানসপটে নানান ধরণের চিত্র অঙ্কিত হতে পারে। বইমেলায় যে সকল শিশুরা ঘুরতে আসবে তাদের জন্যই আমাদের এ আয়োজন।

"আমরা চাই বাচ্চারা যাই শিখুক, যেন আনন্দ নিয়ে শেখে, আনন্দহীন শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা নয়। বাচ্চারা গল্পের মাধ্যমে শিখবে, গল্পের মাধ্যমে বাচ্চাদের সৃজনশীলতা, পারস্পারিক বন্ধুত্ব, পারস্পারিক সৌহার্দ্যবোধ ও সহমর্মিতা গড়ে উঠবে।"
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে 'কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার'।
‘পাপেট শো'র পাশাপাশি বইমেলায় বাচ্চাদের জন্য পুতুল নির্মাণ কর্মশালা ও ঐতিহ্যবাহী বায়স্কোপ প্রদর্শনীও চলছে। এছাড়া আছে গল্প বলার আসর। যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন।
তরুণ নাট্যকার শরণ এহসানের রচনায় 'বনভ্রমণ' এবং 'বল্টু ও তার সাঙ্গপাঙ্গ' নামে দুটি পুতুলনাট্য প্রদর্শনী হবে ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি।

এর মাধ্যমে শিশুরা পরিবেশ দূষণ ও গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষতিকর দিকসহ বৃক্ষ রোপণ ও প্রাণীর প্রতি সহমর্মি আচরণ তৈরিতে সচেতনতা সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে পারবে বলে নাট্যকার শরন এহসান জানিয়েছেন।
'কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার' মিডিয়া টিম বলেছে, নিতাই কর্মকারের লেখা 'বন্যেরা বনে সুন্দর' গল্পের প্রদর্শনী হবে শিশুপ্রহরে। শিশুচত্বরে নিয়মিত থাকবে ইন্টারএক্টিভ পাপেট শো।
দেশে-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চের পাপেটশিল্পী রবিন, রনি, বিনি, শিল্পী, দয়াল, রাসেল ও লিটন থাকবেন 'কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার' এর এবারের প্রদর্শনী গুলোতে।"