১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গৃহপরিচারিকা নিতে যথেষ্ট সতর্ক হোন: জোড়া খুনের ঘটনায় বিচারক

ধানমন্ডির এক বাসায় ২০১৯ সালে গৃহপরিচারিকার হাতে খুন হন আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতি; রায়ে সেই গৃহপরিচারিকার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

গৃহপরিচারিকা নিতে যথেষ্ট সতর্ক হোন: জোড়া খুনের ঘটনায় বিচারক
গৃহপরিচারিকা সুরভী আক্তার নাহিদা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Feb 2026, 07:36 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

ঢাকার ধানমন্ডিতে আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতি হত্যা মামলার রায় ঘোষণার আগে বাসায় গৃহপরিচারিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সাবধান হওয়ার পরামর্শ দিলেন ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার।

আফরোজা ও দিতি সাত বছর আগে খুন হন বাসার গৃহপরিচারিকা সুরভী আক্তার নাহিদার হাতে। সেই মামলায় মঙ্গলবার সুরভীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। তবে আফরোজার বাসার কর্মী বাচ্চু মিয়ার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ের আগে বিচারক তাওহীদা আক্তার তার পর্যবেক্ষণে বলেন, “হত্যাকাণ্ড ঘটানোর তিন বছর আগে বোনের বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করেন সুরভী। সেই চাকরি ভালো না লাগায় ছেড়ে দেন। পরে অপর এক ঘটনায় তার বাবা তাকে মারধর করে। সেই অভিমানে ২০১৯ সালে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান।”

বিচারক বলেন, সুরভী ধানমন্ডি এলাকায় গিয়ে গৃহপরিচারিকার বুয়ার কাজ খুঁজছিলেন। তখন আফরোজা বেগমের বাসার কর্মী বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে তার দেখা হয়। বাচ্চু তাকে কাজ দেওয়ার কথা বললে সুরভী রাজি হয়ে যান। দুরভিসন্ধি নিয়ে তিনি সেই বাসায় যান। পরে নির্মমভাবে দিতিকে হত্যার পর আফরোজা বেগমকে হত্যা করে সোনার চেইন, চুরি ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান।

বিচারক তাওহীদা আক্তার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “গৃহপরিচারিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেককেই যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে যাচাইবাছাই, খোঁজখবর নিয়ে রাখা উচিৎ।”

রায় ঘোষণার আগে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে সুরভীকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাচ্চুর বিরুদ্ধে অন্য মামলা না থাকলে তাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

খালাস পেয়ে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে বাচ্চু ‘শুকরিয়া আদায় করেন’। সুরভী দাবি করেন, তাকে ‘ফাঁসানো হয়েছে’।

২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডির ২৮ নম্বর (নতুন ১৫) রোডে ‘লোবেলিয়া হাউজ’ নামের একটি ভবনের পঞ্চম তলা থেকে টিমটেক্স গ্রুপের এমডি ও ক্রিয়েটিভ গ্রুপের ডিএমডি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি আফরোজা বেগম (৬৫) এবং তার গৃহকর্মী দিতির (১৮) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের দুজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়।

আফরোজা যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, তার উল্টো দিকের ফ্ল্যাট এবং তার ঠিক উপরে ছয়তলার ফ্ল্যাট নিয়ে ডুপ্লেক্সে বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন তার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা। তিনিই এ ঘটনায় ৩ নভেম্বর মামলা দায়ের করেন।

থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। ঘটনার প্রায় ২৭ মাস পর ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান।

২০২২ সালের ১১ অক্টোবর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবার রায় দিলেন বিচারক।