Published : 04 Aug 2025, 05:58 PM
প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করা হবে; সব ক্লাস সশরীরে হবে না, পঠন-পাঠনের ধারাও হবে দেশের সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে আলাদা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মজিবর রহমান বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা হবে ‘ইন্টার ডিসিপ্লিনারি’ ও ‘হাইব্রিড ধরনের’। সেখানে ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনে ও ৬০ শতাংশ ক্লাস অফলাইনে অনুষ্ঠিত হবে৷ তবে সব পরীক্ষা হবে সশরীরে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার সরকারি সাতটি কলেজ নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের অগ্রগতি তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত সচিব মজিবর রহমান, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান ও সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসক ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।
মজিবর রহমান বলেন, সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে স্কুল অব সায়েন্সের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাস। স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিসের জন্য সরকারি বাংলা কলেজ এবং স্কুল অব বিজনেসের জন্য সরকারি তিতুমীর কলেজ। স্কুল অব ল অ্যান্ড জাস্টিসের জন্য কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী প্রথম চারটি সেমিস্টার নন মেজর কোর্সে অধ্যয়ন করবে। পরবর্তী চার সেমিস্টার ডিসিপ্লিন অনুযায়ী মেজর কোর্সে অধ্যয়ন করবে।
“তবে পঞ্চম সেমিস্টারে শর্তপূরণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা ইচ্ছা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারবে, তবে ক্যাম্পাস পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। সবার জন্য সুবিধাজনক স্থানে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস নির্ধারণ করা হবে।”
অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল, সিনেট, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিব মজিবর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রক্টর থাকবেন। আর প্রতিটি কলেজে একজন পুরুষ ও একজন নারী ডেপুটি প্রক্টর থাকবেন। সাত কলেজে মোট ১৪ জন ডেপুটি প্রক্টর থাকবেন।
বিভিন্ন পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পূর্বের বিদ্যমান অ্যাকাডেমিক কাঠামো অনুযায়ী পড়ালেখা শেষ করবেন বলে জানান তিনি।
“তাদের সময় মত পরীক্ষা দেওয়া ও ফল প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলেজগুলোর বিদ্যমান উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় চালু থাকবে। স্নাতক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা টাইম, স্পেস ও রিসোর্স শেয়ারিং পদ্ধতিতে একই ক্যাম্পাস ব্যবহার করবেন,” বলেন মজিবর রহমান।
ঢাকার সরকারি সাতটি কলেজ একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। তবে অধিভুক্ত করার পর থেকে যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়া, ফলাফল প্রকাশসহ বিভিন্ন দাবিতে সময় সময় আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। আট বছরে ক্ষুদ্র সমস্যাগুলো পুঞ্জীভূত হয়ে বড় রূপ নেয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত জানুয়ারিতে কলেজগুলোকে অধিভুক্তি থেকে সরানো হয়। এরপর দাবিদাওয়া আর আন্দোলনের মুখে কলেজগুলো নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
ইউজিসির সদস্য তানজীমউদ্দিন খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সাত কলেজকে যে উপায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত করা হয়েছিল তার কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না। যেভাবে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অধিভুক্তি বাতিল হয়েছে, তারও কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না।
“আমাদের বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছে যাদের সারা শহর জুড়ে কোনো সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি না হয়। আমরা অনুমোদিতভাবেই বিশেষ ব্যবস্থায় গিয়েছি। আশা করি ভর্তির এ সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশসহ আইনি কাঠামোর কাজ শেষ হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট কত আসনে ভর্তি হবে সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন যে ভর্তি কাঠামো শুরু হচ্ছে সেটি বিদ্যমান কাঠামোতে হবে। এটি তদারকি করবে অন্তর্বর্তী প্রশাসন। কলেজের শিক্ষকরা (শিক্ষা ক্যাডার) আপাতত এ কলেজগুলোতে থাকবেন। তারা যোগ্যতা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সুযোগ পাবেন।”
তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোতে না গিয়ে আলাদা কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে ইউজিসি সদস্য তানজীমউদ্দিন বলেন, “তিতুমীর কলেজ অনেক সৌভাগ্যবান, তিতুমীর কলেজ স্কুল অব বিজনেস স্টাডিস। এটা তো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইতে কম কিছু না।”