Published : 30 Jul 2026, 08:21 PM
বিদেশে কর্মী পাঠাতে দেশে যে ৩ হাজারের মতো নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই ‘অনিয়মে জড়িত’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, “সঠিকভাবে নিয়ম মানলে চার-পাঁচশর বেশি লাইসেন্স টিকবে না। ভুয়া ও অনিয়মে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলসহ অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।”
পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে কোনো ধরনের ঘুষ বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) আওতায় অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা মডিউলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
প্রতারণার চক্র হিসেবে যারা কাজ করছেন তাদের ‘ভালো হয়ে যাওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন নুরুল হক।
তিনি বলেন, “প্রত্যেককে ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন এজেন্সি নজরদারি করছে। রেহাই পাওয়ার সুযোগ নাই। সুতরাং আপনারা যদি এখনও এগুলো বন্ধ না করেন তাহলে আপনাদের কপালে শনির দশা আছে।”
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়ার ‘প্রসেস’ নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে যে কী প্রক্রিয়ায় এখানে লোক পাঠানো হবে। বিগত দিনের বিতর্কিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে আমরা একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কম খরচে আমাদের বাংলাদেশিদের যাতায়াতের একটা পথ তৈরি করতে চাই।
“তার আগে দেখছি যে টাকা নেওয়ার জন্য লাইন দেওয়া, সিরিয়াল করা, এগুলো বিজ্ঞাপন চলছে। এটা তো স্পষ্টত অভিবাসী আইনের বিরুদ্ধে। কারণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ নেই।”
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে ম্যাজিস্ট্রেট পদায়ন করা হবে যারা অভিযোগ বা সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করবেন।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান বলেন, “বর্তমান সরকারের কিছু ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম’ রয়েছে, এর মধ্যে একটি হচ্ছে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’। আজকে যেই অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যাপারে এখানে একত্রিত হয়েছি, তার কিছু সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে প্রবাসী কার্ডে।”
তিনি বলেন, “সিসটেক ডিজিটাল লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় তৈরি এই মডিউলটি বিএমইটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশের সব জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনবে।
”প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ঘরে বসেই অনলাইনে অভিযোগ জমা দেওয়া, নথি আপলোড এবং অভিযোগের হালনাগাদ অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারবেন। বিএমইটি কর্মকর্তারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে তদন্ত, সালিশ, নিষ্পত্তি ও প্রতিবেদন তৈরির পুরো প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পাদন করতে পারবেন।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, রামরু এর নির্বাহী পরিচালক তাসনীম সিদ্দিকী।