০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সচল হচ্ছে রাজধানী, কিছু সড়কে যানজট

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাসা থেকে বের হতে পেরে স্বস্তি জানিয়েছেন অনেকে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Jul 2024, 02:40 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:02 AM

কোটা আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ নজিরবিহীন সহিংসতা, কারফিউ এবং সাধারণ ছুটির কারণে এক সপ্তাহের অচলাবস্থার পর সচল হতে শুরু করেছে দেশ।    

বুধবার ও বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়েছে, খুলেছে অফিস-আদালত, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার। তৈরি পোশাক কারখানাও খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ফিরেছে সীমিত পরিসরে, স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন।

বুধবার ঢাকার মিরপুর, আগারগাঁও, মহাখালী, কাকরাইল, মালিবাগ, রামপুরা, পল্টন, তোপখানা রোড এলাকা ঘুরে সড়কে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। রিকশা, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ব্যক্তিগত বাহনের পাশাপাশি কিছু গণপরিবহনও চলতে দেখা গেছে। কিছু জায়গায় সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় সকালেই যানজট তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাসা থেকে বের হতে পেরে স্বস্তি জানিয়েছেন সুনীল রায় নামে একজন। বুধবার কাকরাইল এলাকায় তিনি বলেন, “কয়েক দিনের বন্ধে হাঁপিয়ে উঠেছি। হাতে টাকা-পয়সা নেই। সেজন্য ব্যাংকে টাকা তুলতে যাচ্ছি।”

মালিবাগ মোড়ে রিকশাচালক মমিন মিয়া বলেন, কারফিউর সময় কেউ রিকশায় উঠে না। মঙ্গলবার সারাদিনে যাত্রী টেনে ২৯৫ টাকা পেয়েছেন তিনি, মহাজনকে দিয়েছেন ১২০ টাকা।

“চারজনের সংসার কীভাবে চালামু কন? এই কষ্ট শেষ হইব কখন। গ্রামে কাম নাই, ঢাকায় আইছি কিছু কামাই করমু। এইডাতেও কপাল মন্দ।”

কাকরাইল মোড়, পুরানা পল্টন মোড়, মালিবাগ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি ছিল কম। সে কারণেও বিভিন্ন মোড়ে যানজট ছাড়তে সময় লেগেছে।

এই কদিন প্রায় ফাঁকা থাকার পর ঢাকার মিরপুর, আগারগাঁও,মহাখালী এলাকার সড়কে যান চলাচল আবার বেড়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবস্থান দেখা গেছে বেলা সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। পাশাপাশি ওই সড়কে অন্যান্য যানবাহনও চলাচল করেছে। অফিস যেতে যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে।

কারওয়ানবাজারে একটি বেসরকারি অফিসের কর্মী আসিফুর রহমান বলেন, “অফিস খুলেছে তাই বাসা থেকে বের হয়েছি। কিন্তু রাস্তায় গাড়ি কম।”

বাস না থাকায় সড়কে চলাচল বেড়েছে রিকশা ও অটোরিকশার। মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ফার্মগেট হয়ে কারওয়ানবাজার যেতে যাত্রী ডাকছিলেন ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক মহি উদ্দিন। 

তিনি বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে ফার্মগেট হয়ে কারওয়ানবাজার যাত্রী আনা-নেওয়া করতেছি। ভাড়া ৫০ টাকা।”

মিরপুরে কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, তালতলাসহ প্রতিটি মোড়ে যানবাহনের জন্য অনেককে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবারের পর থেকে মেট্রোরেল বন্ধ থাকায় সড়কে চাপ বেড়েছে।

কাজীপাড়া থেকে মতিঝিল যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় থাকা সাইফুল ইসলাম বলেন, “এই সময় মেট্রোতে করে যাই। তবে মেট্রো বন্ধ থাকায় ঝামেলা হয়ে গেছে। বাসও কম আসছে।”

গণভবনের সামনে দিয়ে মিরপুর সড়ক বন্ধ, আগারগাঁও থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে আসা সড়কে ১০টা পর্যন্ত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে সকাল ৮টার পর থেকেই যানবাহন নেমে যায় সড়কে। এতে সড়কের ওই অংশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

গাবতলী থেকে ফার্মগেটগামী যানবাহনকে শ্যামলী থেকে আগারগাঁওয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার মিরপুর থেকে শ্যামলী হয়ে নিউ মার্কেটমুখী যানবাহনকে আগারগাঁও থেকে শ্যামলী যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে সকাল ৯টার পর থেকেই আগারগাঁও মোড়ে গাড়ির দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গণভবন, সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা যানবাহন তল্লাশি করছেন। বুধবার সকালে সড়কে মানুষ ও যানবাহন বেশি নেমেছে। এতে কয়েকটি সড়কে যানজট তৈরি হয়েছে।

“মিরপুর রোড কর্ডন করা আছে। বিজয় সরণিতে আর্মি মোতায়েন আছ, ওখানে সকাল থেকে যান চলাচলে খুব কড়াকড়ি করা হয়েছে। স্ক্রিনিং করে করে গাড়ি ছাড়ছে, ওই সময়ের মধ্যে অনেক গাড়ি চলে এসে পেছনে টেইল তৈরি হচ্ছে। একইভাবে ভিআইপি রোডেও একাধিক জায়গায় সকালে যানবাহন স্ক্রিনিং করা হয়েছে। আজ সবাই কিন্তু বের হয়েছে, এতে সড়কে চাপ তৈরি হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে।”

কোটা সংস্কারের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল শিক্ষার্থীরা। তারা ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে অবরোধের কর্মসূচির পর সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করলে আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়। এক সপ্তাহে প্রাণ যায় প্রায় দুইশ মানুষের। এ অবস্থায় সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করে সারা দেশে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেয়। 

গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয় কারফিউ। এরপর প্রতিদিনই কয়েকঘণ্টা করে কারিফিউ শিথিল করা হচ্ছে। 

বুধবার ও বৃহস্পতিবার ঢাকায় ৭ ঘণ্টা কারফিউ শিথিলের কথা জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর সরকারি অফিস আদালত খোলা থাকছে ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত।