Published : 08 Sep 2026, 08:05 PM
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে মুনাফার বদলে মোট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার ঘটনা সরকারি নিরীক্ষায় ধরা পড়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকা বেশি নেওয়ার তথ্য তুলে ধরে সেই অর্থ আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে ২০২০-২১ অর্থবছরের এ অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন কমিটির সভাপতি ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতাল অংশের ২০২০-২১ অর্থবছরের হিসাব নিয়ে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টের আটটি আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়।
তাহের বলেন, “মেডিকেল ইউনিভার্সিটির যে পরীক্ষা নিরীক্ষা হয় অথবা যে ইনভেস্টিগেশন হয় সেগুলো সরকারের একটা নিয়ম হচ্ছে তারা লাভের উপরে ৩০% কিন্তু আমরা দেখলাম লাভের উপরে না নিয়ে উনারা আয়ের উপরে ৩০% নিয়ে নিছে।”
তাহের বলেন, “বেশ কয়েক কোটি টাকা এরকম আছে আমরা খুব স্পষ্টভাবে আজকে নির্দেশ দিয়েছি যে এ টাকা যেকোনভাবে আদায় করতে হবে কারণ এটা তাদের এটা তো ক্লিয়ার একটা ভায়োলেশন।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কত টাকা আদায় করছে, সে বিষয়ে প্রতি মাসে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে কমিশন নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও মাসিক প্রতিবেদন দিতে হবে।
এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আটটি অডিট আপত্তির মধ্যে কয়েকটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ আদায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে কমিটি।
কয়েকটি আপত্তি আরও খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে। সরকারি হিসাব কমিটির সদস্য মো. মাহাবুবুর রহমান ও মো. ফজলে হুদার সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ওই কমিটিতে রাখা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় বলেছে, নিরীক্ষাকালীন কেনাকাটার দরপত্রের স্পেসিফিকেশন বা পণ্যের নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য যাচাই করে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অনেক পুরনো অডিট আপত্তি এখন আসছে জানিয়ে কমিটির সহসভাপতি তাহের বলেন, তারা বেশি পুরনো বিষয়ে যেতে চান না। এতে বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের ওপরও কমিটির কাজের প্রভাব পড়বে।
বর্তমান সরকারের সময়কার বিষয়ও পরে অডিটের আওতায় আসবে তুলে ধরে তিনি বলেন, সেগুলো নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
প্রথম বৈঠকে আগের সরকারের আমলের অডিট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বলেন তিনি।
অতীতের সরকারগুলোর সময়ের যেসব অডিট আপত্তি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলোও কমিটি দেখবে বলে জানান তিনি।
সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির মধ্যে আরও ১০টি আপত্তি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
এসব আপত্তির ক্ষেত্রে অর্থ আদায়, সমন্বয়, অবলোপন, প্রমার্জন, নিয়মিতকরণ ও ভূতাপেক্ষ অনুমোদনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার জবাব অডিট কর্তৃপক্ষ যাচাই করেছে। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে নিষ্পত্তির সুপারিশ পাওয়ার পর ওই ১০টি আপত্তি সরকারি হিসাব কমিটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।
বৈঠকে জবাব ও প্রমাণপত্র পর্যালোচনা করে সেগুলো নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আমানউল্লাহ আমান, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মো. হাফিজ ইব্রাহিম, ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, এস কে আজিজুল বারী, মো. মনজুরুল ইসলাম, মো. ফজলে হুদা, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মো. রুহুল আমিন অংশ নেন।