Published : 11 Oct 2025, 06:08 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা ‘সেইফ এক্সিট খুঁজছেন’ বলে যে আলাপ উঠেছে, তাতে একমত নন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি বলছেন, “আমাদের (উপদেষ্টারা) কারো কোনো সেইফ এক্সিটের প্রয়োজন নাই।”
তবে রাষ্ট্রকাঠামো যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, ‘জাতি হিসেবে’ তা থেকে ‘সেইফ এক্সিটের প্রয়োজন আছে’ বলে তার ভাষ্য।
শনিবার আইন মন্ত্রণলায়ের এক সভায় তিনি এমন প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন।
ঢাকার একটি হোটেলে ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ শিরোনামে এ পরামর্শক সভা হয়।
সম্প্রতি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক বক্তব্যে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকে ‘সেইফ এক্সিট’ খুঁজছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁয় এক অনুষ্ঠানে দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও একই ধরনের মন্তব্য করেন।
সেদিন উপদেষ্টাদের উদ্দেশ করে সারজিস বলেন, “মৃত্যু ছাড়া মানুষের ‘সেইফ এক্সিট’ নেই।”
কোন কোন উপদেষ্টা ‘সেইফ এক্সিট’ খুঁজছেন, তা নাহিদ বা সারজিস স্পষ্ট করেননি। তবে এনসিপির এ দুই নেতার বক্তব্যের পর পর প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে।
বুধবার পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিনি কোনো ‘এক্সিট’ খুঁজছেন না।
রিজওয়ানা বলেন, “এর আগেও বহু ঝড়ঝঞ্ঝা এসেছে, ওই ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রতিহত করে দেশে থেকেছি। বাকিটা জীবনও দেশেই কাটাব আপনাদের সঙ্গে।”
নাহিদের বক্তব্যের বিষয়ে সেদিন পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য তাকেই প্রমাণ করতে হবে। এটা আমার বিষয় না, ওই বক্তব্য খণ্ডানোরও বিষয় না।
রিজওয়ানার পর শনিবার বিষয়টি নিয়ে কথা বললেন আইন উপদেষ্টাও।
আসিফ নজরুল বলছেন, “আপনারা জানেন, এখন ‘সেইফ এক্সিট’ নিয়ে নানা কথাবার্তা হচ্ছে। তা আমরা উপদেষ্টারা খুব নিশ্চিতভাবে জানি যে, আমাদের কারো কোনো সেইফ এক্সিটের প্রয়োজন নাই।
“তবে বাংলাদেশের জাতি হিসেবে আমাদের সেইফ এক্সিটের প্রয়োজন আছে। কারণ একটা ভয়াবহ, অসুস্থ, আত্মবিধ্বংসী রাষ্ট্রকাঠামো থেকে আমাদের সেইফ এক্সিট প্রয়োজন, এই জাতির।”
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিগত সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন আইন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “আপনারা সবাই জানেন, রাষ্ট্রপতি কখনোই প্রধান বিচারপতিকে ইন্ডিপেন্ডেন্টলি নিয়োগ করেন নাই। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী বাংলাদেশে সবসময় প্রধান বিচারপতি নিয়োগ পেয়েছেন। তো আমরা আশা করব, এই হিউম্যান রাইটস আইনটা হয়েছে, এই আইনটাতে আমরা যেন সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হিউম্যান রাইটস কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে পারি।
“কাজেই একটা শক্তিশালী হিউম্যান রাইটস কমিশন গড়ে তোলা শুধু সরকারের, আইনজীবীদের, অ্যাটর্নি জেনারেল বা সমাজের কোনো নির্দিষ্ট অংশের মানুষের দায়িত্ব নয়। এটা বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। আশা করি, এ দায়িত্ব আগে থেকে অনেক ভালোভাবে আমরা পালন করতে পারব।”