“জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে একটি ‘টেকনিক্যাল নোট’ দিয়েছে। সেটির পর্যালোচনাও প্রায় শেষ।”
Published : 19 Jun 2023, 10:07 PM
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রোধ বা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়নি মন্তব্য করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘দ্রুতই’ এ আইন সংশোধনে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সোমবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
আনিসুল হক বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার যাতে না হয় সেজন্য সরকার কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে একটি ‘টেকনিক্যাল নোট’ দিয়েছে। সেটির পর্যালোচনাও প্রায় শেষ। দ্রুতই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দেশের সাংবাদিক, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি ও উদ্বেগের মধ্যে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ব্যাপক সমালোচিত ৫৭সহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হলেও পুরনো আইনের বাতিল হওয়া ধারাগুলো নতুন আইনে রেখে দেওয়ায় এর অপপ্রয়োগের শঙ্কা ছিল উদ্বেগের কেন্দ্রে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদ ২০২১ সালে কারাগারে মারা যাওয়ার পর ওই আইন বাতিলের দাবিতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছিল।
এরপর আইনের ‘অপব্যবহার’ বন্ধে আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের মধ্যেও সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার থেমে থাকেনি।
এ বছর মার্চে এক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে প্রথম আলোর একজন সাংবাদিককে ভোররাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় ওই আইন বিলোপের দাবি নতুন করে আলোচনায় আসে।
প্যারিসভিত্তিক রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার সে সময় এক বিবৃতিতে বলে, যে কোনো সমালোচনার জন্য ‘গণমাধ্যমের উপর খড়গ চালানো’ বাংলাদেশের সরকারকে বন্ধ করতে হবে।
আর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ফোলকার টুর্ক বলেন, “এ আইনের ব্যবহার অবিলম্বে স্থগিত করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের শর্তের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংস্কারের জন্য আমি আবারও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
এরপর মে মাসে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে না, তবে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তেমন কিছু সংশোধন আনা হবে।
“জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের একটা টেকনিক্যাল (কারিগরি) নোট পাঠানো হয়েছে। আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি, তাদের কিছু ধারা বাদ দেওয়া এবং সংশোধনের বিষয়ে পরামর্শ ছিল।”
সেই কাজ অনেকটা এগিয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী সোমবার সংসদে বলেন, সাইবার অপরাধ দমনের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রোধের জন্য নয়।
সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “নিরস্ত্র, নিরীহ মানুষকে হত্যাকারী জঙ্গিদের বিচারাধীন মামলা দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
“গত ৩১ মে পর্যন্ত সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালসমূহে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৬৪৫টি।”
সরকারি শূন্যপদ সাড়ে তিন লাখ
সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, দেশের সব মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর ও মাঠ প্রশাসনে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫৪টি পদ শূন্য রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী জনপ্রশাসনে অনুমোদিত পদ ১৪ লাখ ৯ লাখ ৬০৬টি। এর মধ্যে কর্মরত ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪০ জন।
সরকারি দপ্তরে শূন্যপদ পূরণ চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে চলমান। বর্তমানে শূন্যপদ পূরণে সব মন্ত্রাণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। কর্মচারীদের নিয়মিত অবসর ও নতুন পদ সৃষ্টির জন্য সাধারণত পদ শূন্য হয়ে থাকে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে শূন্যপদ পূরণ করা সম্ভব হয় না।
পোল্ট্রি ফিডের ‘মূল্যস্ফীতি’
সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম সংসদকে বলেন, কোভিড-১৯ ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধারাবহিক প্রভাবের ফলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও মূল্য পরিস্থিতি কিছুটা অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ বিভাগেও এর প্রভাব পড়েছে। তাতে উৎপাদন উপকরণসহ পোল্ট্রি ফিডের মূল্যস্ফীতি ঘটেছে।
সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭১-৭২ অর্থবছরে দেশে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থ বছরে দুধ উৎপাদন ১৩০ দশমিক ৭৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।
“স্বাধীনতার ৫০ বছরে দুধ উৎপাদন ১৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জনপ্রতি দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার হিসেবে দেশে দুধের চাহিদা ১৫৬ দশমিক ৬৮ লাখ টন। সেই হিসাবে ঘাটতি রয়েছে ২৫ দশমিক ৯৪ লাখ টন।”
সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে মোট গবাদি পশু ৫ কোটি ৬৭ লাখ ও হাঁস-মুরগির সংখ্যা ৩৭ কোটি ৫৬ লাখ।
আরও খবর -