Published : 10 Jul 2025, 05:56 PM
সচিবালয়ের বিবদমান দুটি পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনার পর প্রায় ১০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে দুটি ক্যান্টিন ও সংলগ্ন দোকানগুলো।
ফলে সচিবালয়ের হাজার হাজার কর্মচারী খাবার ও চা-নাস্তা না পেয়ে ভোগান্তির মধ্যে দিন পার করছেন।
প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে এই জটিলতা নিরসনে কেউ এগিয়ে আসছেন না। দোকান বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়েও কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সচিবালয়ে বেশ কয়েকটি ক্যান্টিন ও দোকান রয়েছে যেগুলো কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা পরিচালনা করেন। তবে এসব দোকান তারা কীভাবে কোন দপ্তর থেকে বরাদ্দ পেয়েছেন সেবিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায় না।
দপ্তর গণপূর্ত অধিদপ্তর ও গণপূর্ত প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকেও এসব দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
কর্মচারী সংগঠনের একাংশের নেতা বাদিউল কবীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুই দশকের বেশি সময় আগে এই ক্যান্টিন ও দোকানগুলো পরিচালনার জন্য কর্মচারী ইউনিয়নকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন মন্ত্রণালয় কীভাবে দিয়েছে তা সঠিকভাবে জানা নেই। তবে এগুলো বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় চলছে না।”
গত ২৫ জুন রাতে সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের নুরুল ইসলাম পক্ষ ও বাদিউল কবীর পক্ষের মধ্যে মারামারি বাঁধে। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন কর্মচারী নেতা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৫ জুন রাতে ক্যান্টিনের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্রে করে দুই পক্ষের সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করেন। এর পর থেকে সচিবালয়ের উত্তর প্রান্তে টিনশেড ভবনে থাকা একটি ক্যান্টিন এবং এর আশপাশের ছোট দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে। ৬ নম্বর ভবনের নিচে থাকা অপর একটি ক্যান্টিনও বন্ধ হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই দশকেরও বেশি সময় আগে কর্মচারীদের নিবন্ধিত সমিতি ‘বাংলাদেশ সচিবালয় বহুমুখি সমবায় সমিতিকে দুটি ক্যান্টিনসহ আরও কয়েকটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে এসব ক্যন্টিনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ছোট ছোট দোকান। কর্মচারী নেতারা এসব ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন।

যোগাযোগ করা হলে সচিবালয়ে অবস্থিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক আসাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি মাত্র কয়েকদিন আগে এই দপ্তরে যুক্ত হয়েছি। তাই বন্ধ ক্যান্টিনগুলো কিভাবে পরিচালিত হয়, কোন প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ দেওয়া হয় তার কিছুই জানার সুযোগ হয়নি।
তবে তার দপ্তরের কয়েকজন স্থায়ী কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবাসন পরিদপ্তর থেকে এসব স্থাপনা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। গণপূর্তের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখা থেকে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার জানান, “তার দপ্তর থেকে কোনো স্থাপনা বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম নেই। এই দপ্তরে কেবল সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ বা এই ধরনের কাজগুলো করা হয়।
সচিবালয়ে কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দগুলো কীভাবে দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমার বদলির আদেশ এসেছে। ফলে এই বিষয়ে এই পরিস্থিতিতে আর কোনো কথা বলা ঠিক হবে না।”
সংযুক্ত পরিষদের একাংশের নেতা বাদিউল কবীর বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি ক্যান্টিন না চালু হোক। কারণ, সাধারণ কর্মচারীদের খাবার দাবারের কষ্ট হচ্ছে। আমাদের বন্ধুরা কর্মচারীদের কল্যাণের চেয়ে নিজেদের পকেটের কল্যাণের চিন্তা বেশি করছে। চাকরি অধ্যাদেশের আন্দোলন চলা অবস্থায় তারা ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্রমূলক একটা কাজ করেছে। সে কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
“আমাদের সাথে কোনো আলোচনা না করে তারা এককভাবে একটা কমিটি গঠন করে, বর্তমান কমিটিকে অসম্মান করে, জোর জবরদস্তি করে অফিস দখলে নিয়েছে। বর্তমান কমিটি নির্বাচিত কমিটি, তাদের মেয়াদ আছে আরও আট মাসের মত। তারা আগেভাগে নির্বাচন দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরেও রাজি ছিল। তারপরেও একটি পক্ষ নিজের পকেটের স্বার্থে দখলের দিকে গেছে।”
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিবসহ ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা চলছে জানিয়ে বাদিউল বলেন, “এর মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠকেরও আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু তারা বৈঠকে আসেননি।”
সংযুক্ত পরিষদের নুরুল ইসলাম গ্রুপের মহাসচিব মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “তারা কমিটি করে দীর্ঘদিন ধরে খাচ্ছে। এখন নতুন কমিটি দেওয়ার পরও সহ্য হচ্ছে না। ক্যান্টিন বন্ধ হওয়ার পর তারা আমাদের ওপর আঘাত করেছে। এখন দেখা যাক কী হয়।”