১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘কয়টা মেয়েকে দেখি এখন?’ জুলাই অভ্যুত্থানের নারীদের প্রসঙ্গে শামা

তিনি বলেন, “আমার কাছে মনে হয় এটা একটা সামাজিক সমস্যা। যেটা রাষ্ট্র বা একটি সরকারের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব না, এখানে সামাজিক বিপ্লব হতে হবে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 08:01 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

একই মঞ্চে থেকেও নারীদের পিছিয়ে পড়ার উদাহরণ দিতে গিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা নারীদের এখন আর না দেখতে পাওয়ায় কথা তুললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে যখন রাজনীতি করতে দেখি, সেটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কেননা, তখন আমাদের মনে হয় তারা রাজনীতি সচেতন।

“একইসঙ্গে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বা কোটাবিরোধী আন্দোলনে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা মাঠে ছিল দুই বছর আগে, তাদের কয়টা মেয়েকে আমরা দেখি এখন? হাতে গোনা তিন-চারজন হয়ত, বেশি হলে।”

এই কয়েকজনের দিক থেকেও নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে তেমন কথা না শোনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সুতরাং, আমার কাছে মনে হয় এটা একটা সামাজিক সমস্যা। যেটা রাষ্ট্র বা একটি সরকারের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব না, এখানে সামাজিক বিপ্লব হতে হবে।”

আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। 

রাজনীতিতে নারীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, “এই যুদ্ধ কতদিন ধরে আমাদের করতে হবে সেটা আমি জানি না। তবে নারীদের গুরুত্ব তো রাজনীতিতে অপরিসীম।”

সিদ্ধান্তগ্রহণের জায়গায় নারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ।

তিনি বলেন, “এই যে ডিরেক্ট ইলেকশনে পার্লামেন্টে আসা, ডিসিশন মেকিংয়ের জায়গায় নারীদেরকে দেখা এবং নারীর তার যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদেরকে স্থান দেওয়া, সেখানে বাংলাদেশ দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে আছি। সেই জায়গাটায় যদি কাজ করতে হয় অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার।”

ডিজিটাল পরিসরে নারীদের হয়রানি ঠেকাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, সেনেগালে হওয়া একটি সম্মেলনে ‘এন্ডিং ডিজিটাল হ্যারাসমেন্ট এগেইনেস্ট উইমেন: ঢাকা ডায়ালগ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ওই প্ল্যাটফর্ম গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

“ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হয়রানি প্রচুর পরিমাণে বেড়ে গেছে এবং এটা কোনো দেশের সীমানা মানে না। আমাদের দেশ পেরিয়ে অন্য দেশেও এটা চলে যাচ্ছে। সুতরাং এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বক্তব্য দেন।