১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মক্কা জোটে নতুন সদস্য নেওয়ার পথ খোলা: বাংলাদেশের আগ্রহ প্রসঙ্গে পাকিস্তান

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছেন, চুক্তিটি এমন দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত, যারা এর যৌথ দায় ও অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

মক্কা জোটে নতুন সদস্য নেওয়ার পথ খোলা: বাংলাদেশের আগ্রহ প্রসঙ্গে পাকিস্তান
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Aug 2026, 11:55 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এমজেডিএ) নতুন কোনো দেশ যোগ দিতে চাইলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করে তা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছেন, চুক্তিটি এমন দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত, যারা এর যৌথ দায় ও অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এমন উত্তর দেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সূত্র ধরে জানতে চান, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে, এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ফ্রন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে কি না। এছাড়া সিরিয়া ও ইরানের মত দেশগুলোর আগ্রহের বিষয়েও বিস্তারিত জানতে চান তিনি।

জবাবে তাহির আন্দ্রাবি বলেন, “মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হল শান্তি রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রচারের লক্ষ্যে গঠিত একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। একটি উদীয়মান নিরাপত্তা বলয় হিসেবে এই জোটের দরজা সেসব দেশের জন্য খোলা, যারা অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ এবং যৌথ বাধ্যবাধকতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

নতুন সদস্য নেওয়ার প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “জোটভুক্ত হওয়ার জন্য যে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আমাদের অংশীদার রিয়াদ এবং আঙ্কারার সঙ্গে পরামর্শ করে বিবেচনা করা হবে।”

নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো দেশের নাম উচ্চারণ করেননি পাকিস্তানের মুখপাত্র। ইরান ও সিরিয়ার আগ্রহ নিয়েও তিনি আলাদা করে কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে তিনি বলেছেন, চুক্তিটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশে আলোচনা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে ।

তিনি বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য সব ধরনের লাভ-ক্ষতির মূল্যায়ন করা হবে।”

আরেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও সোমবার একই ধরনের কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা মক্কা নিয়ে তো সবসময় আলাদা একটা জায়গা, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে, পশ্চিম এশিয়ায় একটা যদি হয়, যদি ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটা নিরাপত্তা চুক্তি হয়, তাহলে ওখানে তো অস্বাভাবিক না যাওয়া। দেখা যাক, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।”

এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান করা ঠিক হবে কি-না এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে বলেন, মক্কা জোটের সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ‘ইতিবাচকভাবে’ বিবেচনা করবে।

তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব আসেনি বলে জানিয়েছেন নি।

কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ অগাস্ট মক্কায় এ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।

চুক্তির একটি মূল বিষয় হল, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদেরও সম্মিলিত প্রতিরক্ষার আওতায় আসার কথা রয়েছে।

চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে করা হয়নি বলে জানিয়েছিল তুরস্ক।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছিলেন, চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে সাধারণ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

পাকিস্তানও চুক্তিটিকে ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি ও কৌশলগত সহযোগিতায় আগ্রহী অন্য দেশের জন্যও এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।