১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রামুতে আহত হাতির আক্রমণ, ৩ জনকে নেওয়া হলো ঢাকায়

হাতিটির ডান পায়ের গোড়ালি উড়ে গেছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2025, 04:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:35 PM

মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত হাতিকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে বন্যপ্রাণীটির আক্রমণে তিনজন আহত হয়েছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার দুপুরে বিজিবির হেলিকপ্টার যোগে তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আহতরা হলেন- ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকারনাইন, গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান এবং সেভ দ্য ন্যাচার অব বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা শাখার সদস্য সচিব আতিকুর রহমান। তাদেরকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজিবি বলছে, শুক্রবার বিকালে কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল থোয়াইংগ্যকাটা এলাকার বালুচড়া দক্ষিণের পাহাড়ে মাইন বিস্ফোরণে এক হাতি আহত হয়। চিকিৎসা দিতে গেলে হাতিটির আক্রমণে তিনজন গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিজিবির হেলিকপ্টারযোগে রামু ক্যান্টনমেন্ট থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সালাম জানান, খাবারের সন্ধানে হাতিটি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় পুঁতে রাখা স্থলমাইনের ওপর পা দিলে বিস্ফোরণ ঘটে। আহত অবস্থায় হাতিটি আতঙ্কে পুনরায় মিয়ানমার সীমান্তে ফিরে যায়। পরে আবারও বাংলাদেশে প্রবেশ করলে চাকঢালার চেরার মাঠের ঐট্টাইল্যাঝিরি এলাকায় রাখা হয়।

তিনি বলেন, “হাতিটির ডান পায়ের গোড়ালি উড়ে গেছে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। এটি মিয়ানমারের হাতি নাকি বাংলাদেশের, তা নিশ্চিত নয়। কারণ বাংলাদেশের অনেক বন্যহাতি খাবারের সন্ধানে মিয়ানমারে যায় এবং আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসে।”

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, গত রোববার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে হাতিটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হয়। মাইন বিস্ফোরণে হাতিটির সামনের ডান পা প্রায় অবশ। ওই পায়ের তলা ও নখ উড়ে গেছে। বাকি তিনটি পায়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হচ্ছে হাতিটিকে। পায়ের ক্ষতের যন্ত্রণা নিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছিল হাতিটি। 

এই বন কর্মকর্তা বলেন, রক্ত ও পানিশূন্যতায় হাতিটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাই আহত হাতিটির দীর্ঘ মেয়াদে নিবিড় পরিচর্যার দরকার ছিল। হাতির অবস্থান নিশ্চিত করে এই চিকিৎসক দল পরিচর্যার জন্য গিয়েছিলেন। চিকিৎসার জন্য যাওয়া ১৫ সদস্যের দলটিকে দেখে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হাতিটি। এতে প্রত্যেকেই আহত হন। 

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এই বন কর্মকর্তা আরও বলেন, “গুরুতর আহত তিনজনের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমানের বুকের উপর হাতির পারা পড়ে। এতে তিনি সবচেয়ে বেশি আশংকাজনক অবস্থায় আছেন।”