Published : 05 Jan 2026, 07:33 PM
তথ্যচিত্র প্রদর্শন, সঙ্গীত ও আলোচনার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের উপ সেনাপতি একে খন্দকার বীরউত্তমকে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
সোমবার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনের এই অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের কীর্তির জন্যই তাকে মনে রাখতে হবে। দূরদর্শী, বিচক্ষণ ও মানবিক একজন মানুষ হিসেবে একে খন্দকার অনন্য হয়ে থাকবেন।”
মহুয়া মঞ্জুরী সুনন্দার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে; তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে' গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এরপর দেখানো হয় একে খন্দকার ও বিমানবাহিনী নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র।
সূচনা বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী বলেন, “যাদের বীরত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তাদের শীর্ষ মানুষদের একজন একে খন্দকার। তার সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে, তিনি সকলকে নিয়ে কাজ কারতেন।
“মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একে খন্দকার অভিভাবকের মতো পাশে থেকেছেন। তাকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।”
বীরপ্রতীক আলমগীর সাত্তার বলেন, “একে খন্দকার মুক্তিযুদ্ধে ডেপুটি চিফের পাশাপাশি ছিলেন চিফ কোঅর্ডিনেটর। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় তার দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতা ছিল অতুলনীয়।”
মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, "আমরা অক্টোবরের দিকেই বুঝতে পারছিলাম মুক্তিযুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে। কারণ এক কোটি শরণার্থী বেশি দিন ভারত বহন করতে চাইবে না। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা জন্য আব্দুল করিম খন্দকার সাহেবকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।”
এ কে খন্দকারের মেয়ে মাতুনা খন্দকার মোস্তফা বলেন, “এই স্মরণানুষ্ঠান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। আব্বা গভীরভাবে দেশকে ভালোবেসেছেন। আব্বা চেষ্টা করেছেন যেন এই দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারে।”
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমোডর হাসান মাহমুদ বলেন, “বিমান বাহিনী একে খন্দকারের অবদানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। সম্প্রতি ঢাকায় বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটি তার নামে করা হয়েছে।”
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের গ্যালারি গাইড ইয়াসমিন লিসা এবং ব্যবস্থাপনায় ছিলেন জাদুঘরের ব্যবস্থাপক (কর্মসূচি) রফিকুল ইসলাম।