১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘লাঠিসোঁটা’ নিয়ে মিরপুরের সড়কে শ্রমিকরা

আন্দোলনের মধ্যে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না উত্তেজিত শ্রমিকরা। ছবি তুলতে গেলেও তেড়ে আসছেন।

‘লাঠিসোঁটা’ নিয়ে মিরপুরের সড়কে শ্রমিকরা

ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বর থেকে মিছিল নিয়ে ১০ নম্বর গোলচত্বরমুখী পোশাক শ্রমিকরা। 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Nov 2023, 12:19 PM

Updated : 01 Nov 2023, 09:39 PM

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ফের ঢাকার মিরপুরের সড়ক দখলে নিয়ে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা।

‘লাঠি ও জিআই পাইপ’ নিয়ে বুধবার সকালে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরের দিকে জড়ো হন তারা। এরপর মিরপুর ২, মিরপুর ১২, মিরপুর ১৪ এবং রোকেয়া সরণি হয়ে আগারগাঁওয়ের দিকে ছড়িয়ে পড়েন কয়েক হাজার শ্রমিক।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শ্রমিকরা ‘কাঠের লাঠি ও জিআই পাইপ’ নিয়ে আশপাশের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে ধাওয়া দিচ্ছে। আতঙ্কে সড়কের আশেপাশে ছোটখাটো কিছু দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। 

আন্দোলনের মধ্যে গণমাধ্যম কর্মীদেরও প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না উত্তেজিত শ্রমিকরা। ছবি তুলতে গেলেও তেড়ে আসছেন।

সকাল ১০টায় মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অবস্থান করছেন একদল পুলিশ। তাদের সামনেই শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন।

Image

ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বর থেকে মিছিল নিয়ে ১০ নম্বর গোলচত্বরমুখী পোশাক শ্রমিকরা। ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

Image

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বুধবার সড়কে বিজিবির বিশেষ টিমের সতর্ক অবস্থান। ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

Image

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বুধবার সড়কে বিজিবির বিশেষ টিমের সতর্ক অবস্থান। ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

Image

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বুধবার বিজিবির বিশেষ টিমের টহল

Image

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বুধবার বিজিবির বিশেষ টিমের টহল

Image

মিরপুর ১০ নম্বর  এলাকায় বুধবার পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে সড়কে তৈরি হয় যানজট।

Image

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বুধবার বিক্ষোভরত পোশাক শ্রমিকদের থামানোর চেষ্টায় পুলিশ।

Image

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বুধবার বিক্ষোভরত পোশাক শ্রমিকদের থামানোর চেষ্টায় পুলিশ।

Image

ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বুধবার লাঠি হাতে বিক্ষুব্ধ নারী পোশাক শ্রমিকরা।

Image

ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বুধবার লাঠি হাতে বিক্ষুব্ধ নারী পোশাক শ্রমিকরা।

Image

বেতনভাতা বৃদ্ধি এবং সহকর্মীদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে বুধবার ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

Image

ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বর থেকে মিছিল নিয়ে ১০ নম্বর গোলচত্বরমুখী পোশাক শ্রমিকরা। ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

ঘটনাস্থলের আশপাশে সরকার সমর্থক যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন। ৯৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের এক নেতা বলেন, “শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি কর্মীরা মিশে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।”

সকালে শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে মিরপুর এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকালে কিছু গণপরিবহন রাস্তায় নামলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো মিরপুর ১০ নম্বর চত্বর এড়িয়ে অন্যান্য সড়ক দিয়ে চলে গেছে। 

Image

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বুধবার সড়কে বিজিবির বিশেষ টিমের সতর্ক অবস্থান। 

কাজীপাড়া এলাকায় অবস্থান নেওয়া বিহঙ্গ পরিবহনের এক কর্মী বলেন, “ওই এলাকায় দাঁড়ানোর অবস্থা নেই। একটুর জন্য শ্রমিকরা আমার গাড়িটি ভেঙে দিচ্ছিল।”

পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহিদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান করছে। তাদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে।রাস্তায় গাড়ি চলাচল কম থাকার কারণে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।”

আগের দিন মঙ্গলবারও মিরপুরের পল্লবীতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভে নামেন পোশাক শ্রমিকরা। তবে পরে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।

Image

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বুধবার বিক্ষোভরত পোশাক শ্রমিকদের থামানোর চেষ্টায় পুলিশ।

পোশাক খাতের মজুরি নিয়ে গাজীপুরে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কনকর্ড এবং ডিকু গার্মেন্টেসের শ্রমিকরা পল্লবীতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। রাস্তায় নামার ঘণ্টাখানেক পরই শ্রমিকদের ওই বিক্ষোভে ‘দুর্বৃত্তরা’ হামলা চালায়।

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক বিক্ষোভ করে আসছেন গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধলে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বিক্ষোভ চলাকালে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় আগুন দেওয়া হয়; সেখানে প্রাণ যায় আরেকজনের।

মঙ্গলবারও তাদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কালিয়াকৈরের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালানোর পাশাপাশি আরেকটি পুলিশ বক্স তারা পুড়িয়ে দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে কোথাও সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।