২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু: আগের চুরির তথ্যে উত্তরার সেই গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

নাম পাল্টে কাজ নিয়েছিলেন ওই গৃহকর্মী। অপরাধের পর বাসা পরিবর্তন করাই তার কৌশল, বলছে পিবিআই।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Feb 2026, 06:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:00 PM

রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের এক বাসায় এক দম্পতিকে ‘চেতনানাশক’ প্রয়োগের পর গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনার সন্দেহভাজন গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর ৪০ বছর বয়সি বিলকিছ বেগম দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

মঙ্গলবারের ওই ঘটনার দুই দিন আগে বিলকিছ নাম পাল্টে ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছিলেন। পরে বয়স্ক ওই দম্পতির খাবারের সঙ্গে ‘চেতনানাশক’ মিশিয়ে তাদের অজ্ঞান করে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে।

রোববার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, বৃহস্পতিবার প্রধান সন্দেহভাজন বিলকিছ বেগমকে গাজীপুরের চৌরাস্তা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, নাম-পরিচয় না থাকায় ঢাকার বিভিন্ন থানায় হওয়া আগের মামলার সূত্র ধরে বিলকিছকে শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার চৌরাস্তা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একইদিন তার দেওয়া তথ্যমতে চৌরাস্তার সোনার দোকানী রবিউল আউয়ালকে (৫৩) গ্রেপ্তার করা হয়। বিলকিছের কাছ থেকে এ ব্যক্তি লুটের জিনিসপ কিনেছিলেন।

পরদিন শুক্রবার গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে হাজির করলে বিলকিছ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং রবিউলকে একদিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

রিমান্ড শেষে রোববার আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে অতিরিক্ত ডিআইজি মান্নান ‘ক্লুলেস’ এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের তথ্য দেন।

গত মঙ্গলবার উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বরের একটি বাসায় বয়স্ক দম্পতিকে খাবারের সঙ্গে ‘চেতনানাশক’ মিশিয়ে অচেতন করে জিনিসপত্র লুট করা হয়।

সেদিন রাতে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর গৃহকর্ত্রী ৬২ বছর বয়সি আয়শা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার স্বামী ৬৮ বছরের আনোয়ার হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সেদিন পুলিশ জানিয়েছিল, বাসার তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ওই গৃহকর্মী নিজের নাম মারুফা বললেও, তার কোন আইডি কার্ড, ফোন নম্বর রাখা হয়নি।

বৃহস্পতিবার ওই দম্পতির সন্তান মনোয়ার হোসেন উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ভিডিও পর্যালোচনার তথ্য দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মান্নান বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ওই গৃহকর্মী বাসায় প্রবেশ করেন এবং কাজ শেষে বেলা আড়াইটার দিকে বেরিয়ে যান।

ওই গৃহকর্মীর কোনো ঠিকানা না থাকায় এবং স্পষ্ট ছবি না পাওয়ায় পিবিআিই রাজধানীতে কাজের মেয়ের মাধ্যমে চেতনানাশক ব্যবহার ও চুরির মামলাগুলো পর্যালোচনা করে।

এমন এক গৃহকর্মীর ছবি সংগ্রহ করে ওই দম্পতির পরিবারকে দেখালে তারা তাকে শনাক্ত করে। ওই মামলার তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, তার আসল নাম বিলকিছ বেগম।

পুলিশ কর্মকর্তা মান্নান বলেন, “ওই মামলায় দেওয়া তার অস্থায়ী গাজীপুরের ঠিকানায় যোগাযোগ করে জানা যায়, অপরাধের পর বাসা পরিবর্তন করাই তার কৌশল। বাধ্য হয়ে পিবিআই টিম তার বাবার বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া, শ্বশুর বাড়ি জামালপুর ও মেলান্দহে অভিযান চালায়। পরে তার গাজীপুরের নতুন ঠিকানা নিশ্চিত হয়ে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

বিলকিছের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত, শেরেবাংলা নগর, ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও হাতিরঝিল থানায় একইরকম মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। সে আগেও ছদ্মনামে বাসায় কাজ নিয়ে মামলামাল চুরি করে পালিয়েছেন বলে জানান তিনি।

মামলায় অভিযোগের বরাতে পিবিআই বলছে, বিলকিছ ওই বাসায় মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ শুরু করেছিল। সে সময় বাসার তত্ত্বাবধায়কের কাছে নিজের নাম মমতাজ বলেছিল, কিন্তু বাসায় বলেছিল মারুফা।

ঘটনার দিন ওই দম্পতির ছেলে স্ত্রীসহ বেড়াতে গেলে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাইয়ে দেয় গৃহকর্মী। তাদেরকে অচেতন করে প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তারের পর গৃহকর্মী বিলকিছের কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার ৩০০ টাকা ও চেতনানাশক ওষুধের একটি খালি পাতা উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে পিবিআই।

‘চেতনানাশক’ প্রয়োগ করে বাসা লুট, নারীর মৃত্যু, স্বামী হাসপাতালে