১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সন্ত্রাসবিরোধী মামলা: মেহেদী-শান্তাসহ ৬ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন

মামলায় অভিযোগ করে হয়েচে, “আসামিরা আওয়ামী লীগের দোসর এবং বর্তমান সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 04:31 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মনিরুল ইসলাম বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। 

এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই শাহ আলম জানিয়েছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন-দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল ও হরী  সরকার।

তাদের বিরুদ্ধে বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তি মামলা দায়ের করেন মঙ্গলবার রাতে। মামলায় এই ছয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুপুরে শাহবাগ থানারও ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাতে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “বাবুল সরকার নামে একজন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

এজাহারে বলা হয়েছে, “আসামিরা আওয়ামী লীগের দোসর এবং বর্তমান সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী। শান্তা ফারজানা ঢাকা মেডিকেলে  প্রবেশ করার পর তারেক রহমানকে অবৈধ প্রধারমন্ত্রী এবং জুলাই আন্দোলনকে জঙ্গী আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করে। শান্তা ফারজানা, মোমেন মেহেদী ইতিপূর্বে গণমাধ্যমে এসে আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দেয়। শেখ হাসিনাকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করে। জুলাই পরবর্তী নবগঠিত বিএনপি সরকারকে উৎখাত করার জন্য আওয়ামী লীগের সাথে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ করে টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সরকার বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে। জুলাই আন্দোলনে প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে মাদকাসক্ত, নেশাখোর বলে কটাক্ষ করে।

“মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ থানার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আসামিরা উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিল দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করা, সরকার তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করার জন্য জন সম্মুখে কালো আইন বাতিল, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দিতে থাকে।"

“বাবুল সরকার এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালান। এতে আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়াসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় রাত ১১টার দিকে তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে গেলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে।

এতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকে। পরে স্বল্প সময়ের জন্য সেবা চালু হলেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় তা আবার ব্যাহত হয়।

আরও পড়ুন:   

মেহেদী-শান্তাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ