Published : 05 Aug 2026, 02:36 PM
নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল ও হরিদাস সরকার।
বুধবার দুপুরে শাহবাগ থানারও ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার রাতে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, “বাবুল সরকার নামে একজন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এজাহারে বলা হয়েছে, “মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ থানার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আসামিরা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত।
“বাদী বাবুল সরকার এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালান। এতে আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়াসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় রাত ১১টার দিকে তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে গেলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে।
এতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকে। পরে স্বল্প সময়ের জন্য সেবা চালু হলেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় তা আবার ব্যাহত হয়।
শান্তা ফারজানার অভিযোগ, প্রেস ক্লাবের সামনে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল আবারও হামলা চালায়।
তবে আয়াস পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, শহীদ আবু সাঈদ ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতাদের বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হাসপাতালে গিয়েও তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-
ঢাকা মেডিকেলে মারধর-অবরুদ্ধ, শান্তা ফারজানাসহ ৬ জন পুলিশ হেফাজতে