১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাসিনা পরিবারের রায়ে হতাশ দুদক

“বিচারক অবাক হয়ে গেছেন যে, একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী—চারবারের প্রধানমন্ত্রী উনি কীভাবে মিথ্যা হলফনামা এবং তথ্য গোপন করেন,” বলেন আইনজীবী লিপন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Nov 2025, 12:55 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:56 PM

ঢাকার পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন না হওয়ায় হতাশ দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

বৃহস্পতিবার রায়ের পর দুদকের কৌঁসুলি খান মো. মাইনুল হাসান লিপন বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা হয়নি। কমিশনের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।”

তিনি বলেন, “আদালত তার রায়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত একটি পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছে। সে পর্যবেক্ষণ উনি (বিচারক) উল্লেখ করেছেন যে, একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী তথ্য গোপন করতে পারে, মিথ্যা হলফনামা দিতে পারে—এটা তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয় নাই। 

“উনি অবাক হয়ে গেছেন যে, একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী—চারবারের প্রধানমন্ত্রী উনি কীভাবে মিথ্যা হলফনামা এবং তথ্য গোপন করেন; জনগণের সম্পদ উনি মিথ্যাভাবে নিয়ে নিয়েছেন।”

দুদকের কৌঁসুলি লিপন বলেন, “রাজউক এবং গণপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিয়েও কিছু অবজারভেশন দিয়েছে—তাদেরকে আইন পরিবর্তন এবং আর কিছু নতুন আইন সংযোজনের বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।” 

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে একটি মামলায় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আরেক মামলায় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ঢাকা শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরেও ‘সেই তথ্য গোপন করে তারা আইন ভেঙে দুর্নীতির মাধ্যমে’ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা আকারের তিনটি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন।

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এদিন ওই তিন মামলার রায় ঘোষণা করেন।

হাসিনা পরিবারের তিনজন ছাড়াও এ তিন মামলায় আরো ২০ জন আসামি রয়েছেন, যাদের মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন কেবল একজন। রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গত ২৯ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নাকচ করে দেয় আদালত।

আদালতকে সম্মান দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করায় তাকে লঘু শাস্তি হিসেবে ১ বছর করে তিন মামলায় ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি খুরশীদ আলমের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম।

২৩ আসামির মধ্যে কেবল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার খালাস পেয়েছেন। বাকি ১৮ আসামি বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে।

আরও পড়ুন

হাসিনা, জয়, পুতুলের সঙ্গে অন্যদের যে সাজা হলো

প্লট দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনা ও দুই সন্তানের সাজা