আনিসুলদের মামলা প্রত্যাহার, জাপায় জিএম কাদেরের কার্যক্রমে বাধা নেই
"আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ২ অগাস্ট মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার আবেদন করেন। মঙ্গলবার আদালত আদেশ দিয়েছে,” বলেন আইনজীবী।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে আদালত।
দলের সাবেক সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে ‘ঐক্য সম্মেলনের’ পর জিএম কাদেরের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আদেশ এল।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মামলা প্রত্যাহার করায় মঙ্গলবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা জজ রুবায়েত ফেরদৌস এই আদেশ দেন, যার ফলে জিএম কাদেরের দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে আর বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
একই সঙ্গে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলমের সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার জিএম কাদেরের আইনজীবী মনোয়ার হোসেন আলম এ তথ্য দিয়ে বলেছেন, “মামলার বাদী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ২ অগাস্ট মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার আবেদন করেন। পরে ১১ আগস্ট মামলাটি ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত থেকে ষষ্ঠ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বদলি হয়। পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার বিচারক মামলা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করেন।
“একইসঙ্গে জিএম কাদের ও মাহমুদ আলমের দলীয় কার্যক্রমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রত্যাহার করেন।”
গেল ৩০ জুলাই জিএম কাদের ও মাহমুদ আলমের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। এছাড়া জিএম কাদের দলের যে ১০ নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন তার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
২৮ জুন প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে এই ১০ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং জাতীয় পার্টির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও তাদের নাম মুছে ফেলা হয়৷
ওই ঘটনায় ১০ জুলাই অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতারা জি এম কাদেরসহ দুইজনসহ মোট চারজনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা করেন। অন্য দুজন হলেন-প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব, তারা মোকাবিলা বিবাদী।
মামলার ১০ বাদীর মধ্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মো. মুজিবুল হক, যারা পরে রওশনপন্থি জাতীয় পার্টির নেতাদের নিয়ে আলাদা সম্মেলন করে আরেকটি কমিটি গঠন করেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা গঠনতন্ত্র পরিপন্থিভাবে জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর জিএম কাদের পার্টির সম্মেলন ও কাউন্সিল করে অবৈধভাবে নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেন। সবশেষ চলতি বছরের ২৮ জুন প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ ১০ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং জাতীয় পার্টির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও তাদের নাম মুছে ফেলা হয়৷
৯ অগাস্ট জাতীয় পার্টির জিএম কাদের অংশকে বাদ রেখে রওশন এরশাদপন্থিদের নিয়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মো. মুজিবুল হক চুন্নুর আরেক অংশের ঐক্য হয়েছে; সম্মেলনে নতুন কমিটিও গঠন করেছে এক হওয়া এ দুই অংশ।
এ সম্মেলনে দলের আগের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে এই অংশের চেয়ারম্যান এবং কো-চেয়ারম্যান ও এক সময়ের সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব নির্বাচন করা হয়েছে।
এছাড়া কাজী ফিরোজ রশিদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান এবং মো. মুজিবুল হক চুন্নু নির্বাহী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
সাবেক সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের প্রতিষ্ঠিত দলটি ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর থেকেই বেকায়দায় আছে।
জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি অংশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যের ‘পাপ’ থেকে দলকে মুক্ত করতে সম্প্রতি জিএম কাদেরকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর উদ্যোগ নিলে জাতীয় পার্টি ফের ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে। পরে নানা ঘটনাপ্রবাহে দলের এসব নেতা জিএম কাদেরকে ছাড়াই জাতীয় পার্টির কমিটি করলেন।
আরও পড়ুন:
