Published : 13 Dec 2024, 11:01 PM
টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদ কান্দলভীর পক্ষে বিপক্ষে বিরোধের জেরে গাজীপুরে ফের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়েছে।
সাদের অনুসারীদের জোড় ইজতেমা করতে না দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেয় মাওলানা জুবায়ের আহমদের অনুসারীরা।
এতে দুপুর ২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ওই এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
সমাবেশের পর দাবি আদায়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দেন বিক্ষোভকারীরা।
গত ২৯ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে ৫ দিনের জোড় ইজতেমা পালন করেন কাকরাইল মারকাজের মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা।
এরপর ইজতেমা মাঠে ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ দিনের জোড় ইজতেমা পালনের ঘোষণা দেন দিল্লির মাওলানা সাদের অনুসারীরা।
কিন্তু জুবায়ের আহমদের অনুসারীরা সাদ অনুসারীদের ইজতেমা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
গত বৃহস্পতিবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন জুবায়ের অনুসারীরা। ওইদিন দুপুরে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা। এ ঘটনায় নিজেদের পাঁচ মুসল্লির আহত হওয়ার অভিযোগ তোলেন সাদপন্থিরা।
গত কয়েক বছরের মত এবারও টঙ্গীর তুরাগতীরে দুই পর্বে হবে তাবলীগ জামাতের সবচেয়ে বড় জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা।
প্রথম পর্বে ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ইজতেমায় অংশ নেবেন ‘জুবায়েরপন্থিরা’ এবং দ্বিতীয় পর্বে ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি অংশ নেবেন ‘সাদপন্থিরা’।
শুক্রবারের স্মারকলিপিতে জুবায়েরপন্থিরা অভিযোগ করেন, “সরকারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাদপন্থিরা দেশের সব জেলায় চিঠি পাঠায়। তাতে আগামী ২০ ডিসেম্বর ৫ দিনের জোড় করার উদ্দেশে টঙ্গী ময়দানে আসতে বলা হয়েছে, যা সরকারের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।”
সমাবেশে জুবায়েরপন্থি মুফতি মাসুদুল করীম বলেন, “প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা’ মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।”
মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আনা হলে বা সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের জোড় ইজতেমা করতে দেওয়া হলে পুরো গাজীপুর অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে ইজতেমা ময়দানে মাওলানা জুবায়েরের কয়েক হাজার অনুসারী অবস্থান করছিলেন। তুরাগ নদীর পশ্চিম পাড়ে আছেন সাদ অনুসারীরা।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম নাসিরুদ্দিন বলেন, “জুবায়ের অনুসারীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। ইজতেমা ময়দান ও আশপাশে বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”