লন্ডনে বাংলাদেশের নতুন হাই কমিশনার আব্দুল মুহিত
বিসিএস একাদশ ব্যাচের এ কর্মকর্তা জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্বেও ছিলেন।
ফরেন সার্ভিস একাডেমির দায়িত্ব পালন করে আসা কূটনীতিক মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে লন্ডনে বাংলাদেশের হাই কমিশনার করে পাঠাচ্ছে সরকার।
তাকে দুই বছরের চুক্তিতে নতুন এই দায়িত্ব দিয়ে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বিসিএস একাদশ ব্যাচের কর্মকর্তা মুহিত ফরেন সার্ভিস একাডেমির প্রধান হওয়ার আগে ২০২২ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন।
এর আগে ভিয়েনায় জাতিসংঘের কার্যালয়সমূহে ঢাকার স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়ায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও সামলেছেন মুহিত।
২০১৫ সালের অগাস্ট থেকে পাঁচ বছর ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন মুহিত। এর আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রদূত ছিলেন এই কূটনীতিক।
কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে আব্দুল মুহিত কুয়েত, রোম ও দোহা মিশনেও ছিলেন।
প্রজ্ঞাপনে মুহিতের অভোগকৃত অবসর-উত্তর ছুটি ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত করার কথা বলেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে রেক্টর হিসেবে তার দায়িত্বের অবশিষ্ট মেয়াদ।
প্রজ্ঞাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলেছে, লন্ডনে হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা মুহিত কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষায় ডিপ্লোমা করেছেন।
লন্ডন মিশনে হাই কমিশনার আবিদা ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন মুহিত। আবিদাকে বিএনপি সরকার গঠনের ২০ দিনের মাথায় গত ৬ মার্চ প্রত্যাহার করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর সেসময়ের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের লন্ডন সফরের মধ্যে আবিদা ইসলামের বিষয়ে ওই সিদ্ধান্তে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল।
সরকারি আদেশ হওয়ার আগে লন্ডন বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তাকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এখন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আসা হুমায়ুন কবির। তার প্রত্যাহারকে ‘সুখবর’ হিসাবেও বর্ণনা করেন তিনি।
প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছিলেন, “একটা সুখবর আছে। শোনেন, একটা সুখবর হইল যে, হাই কমিশনার লন্ডনে এতদিন 'ডিভাইসিস বিহেভিয়ারে-কনডাক্টে কমিউনিটিকে ডিভাইড' করে রাখছে, যে আওয়ামী করণ করছে এই হাই কমিশনকে, আওয়ামী লীগ করণের ধান্ধা নিয়া চলছে, কমিউনিটির ধান্ধা নাই, বাংলাদেশের ইন্টারেস্ট দেখে না, এই হাই কমিশনারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
চব্বিশের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আসা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার বিদেশি মিশনগুলোতে রদবদলের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবিদা ইসলামকে এ দায়িত্বে আনে।
এর আগে লন্ডন মিশনে থাকা বহুল আলোচিত হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে প্রত্যাহারের পর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। ওই পদে যাওয়ার আগে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সামলেছেন বিসিএস ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা আবিদা।
