১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সদরঘাটে দুর্ঘটনা: ২৪ ঘণ্টায়ও খোঁজ মেলেনি একজনের

পানির স্রোত এবং লঞ্চ চলাচল বেশি থাকায় আগের দিন রাতে স্থগিত হওয়া উদ্ধার কাজ আর শুরু করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Mar 2026, 07:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:12 PM

রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের চাপায় পড়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকার এক যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার খোঁজ মেলেনি।

তবে পানির স্রোত এবং লঞ্চ চলাচল বেশি থাকায় আগের দিন রাতে স্থগিত হওয়া উদ্ধার কাজ বৃহস্পতিবার শুরু করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার কোতোয়ালী থানার ওসি শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় নিখোঁজ মিরাজের (৫২) সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি দুর্ঘটনায় নিহত সোহেলের শ্বশুর।

এ ঘটনায় সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবি মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বুধবার বিকালে তারা ট্রলারে করে মাঝ নদীতে থাকা লঞ্চে উঠতে যাচ্ছিলেন। তখন ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চ এবং ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চের মাঝখানে ট্রলারটি চাপা পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছিলেন, একটি লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে যাওয়ার জন্য পেছাতে (ব্যাকগিয়ার) শুরু করলে দুই লঞ্চের চাপায় পড়ে যায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি। দুই লঞ্চের চাপায় একজন যাত্রীর পা টুকরো হয়ে কেটে যায়। আরেকজন যাত্রী পিষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে যান।

উদ্ধার কার্যক্রমের বিষয়ে বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিস সদরঘাট স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জহিরুল ইসলাম বলেন, “লঞ্চ দুর্ঘটনায় মিরাজ নামের একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে আজ সকাল ৬টা থেকে কাজ শুরু করার চেষ্টা করেছিলাম।

“কিন্তু পানির প্রবাহ অপ্রত্যাশিতভাবে প্রবল ছিল এবং লঞ্চগুলোও ঘনভাবে জড়ো থাকায় সরানো যাচ্ছিল না। পাশাপাশি যাত্রীদের চাপও কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল। ডুবুরিরা চেষ্টা করলেও বারবার লঞ্চের নিচে চলে যাচ্ছিল।”

তিনি বলেন, “সকাল ৮টার পর পন্টুন এলাকা কিছুটা ফাঁকা হওয়ার পর ডুবুরিরা পুনরায় চেষ্টা চালিয়েছে। তবে লঞ্চগুলো সরানোর সময় যাত্রীদের চাপ এবং জোয়ার-ভাটার পরিবর্তনের কারণে ডুবুরিরা নিচে দীর্ঘ সময় থাকতে পারছিল না, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সিনিয়র অফিসারদের পরামর্শে অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।”

লঞ্চের চাপ কমলে ডুবুরিরা আবার উদ্ধারকাজ শুরু করবে। সে পর্যন্ত টহল অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।

বুধবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠনের পাশাপাশি দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিলের তথ্য দেন।

তিনি বলেছিলেন, “আমরা এসব বিষয়ে খুব সিরিয়াস। প্রকৃতপক্ষে যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেব। কারণ নৌপথে ছোট্ট দুর্ঘটনাও মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।"

আরও পড়ুন

সদরঘাটে দুই লঞ্চের চাপায় ট্রলার, নিহত ১

সদরঘাটে দুর্ঘটনা: ২ তদন্ত কমিটি, ২ লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল