ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: অনিয়ম ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ জামায়াতের
আসনটির উপনির্বাচনে সোয়া এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ ও ব্যালটে আগাম সিল মারার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এসব অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানের পাশাপাশি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রাতে দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গোলাম পরওয়ারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া এবং ভোট দেওয়ার আগেই 'ভোট দেওয়া হয়ে গেছে' বলে কেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার তথ্য আমরা পেয়েছি। এ ছাড়া ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা এবং নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত অনেক কর্মকর্তার পরিচয়পত্র না থাকার মতো ঘটনা ঘটেছে।
“কয়েক স্থানে ব্যালট বইয়ের মুড়িতে আগে থেকেই সিল ও স্বাক্ষর করে রাখা হয়েছে, যা জাল ভোটের সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকায় অর্থ বিতরণের খবরও পাওয়া গেছে।”
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সোয়া এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
ভোটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট।
জামায়াতের অভিযোগ, ভোট ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদের ওপর নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমরা এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছিলাম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা বেশি থাকলেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় না, তবে ভোটারদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত।”
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ইউএনওর বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, “অভিযোগ করা সত্ত্বেও তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি।
“একটি উপনির্বাচনেই যদি অনিয়মের অভিযোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না যায়, তবে আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো কীভাবে নিরপেক্ষ হবে—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।
